,

রোদ-বৃষ্টিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ৮৭ শিক্ষক অসুস্থ

news-image

রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নন-এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের টানা চতুর্থ দিনের অনশন চালিয়ে যেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৮৭ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে ৬৭ জনের শরীরে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ২৩ জুন থেকে সারাদেশের নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি আদায়ে এমন কঠিন কর্মসূচি পালন করে আজ বৃহস্পতিবারও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘টানা চার দিনের অনশনে এ পর্যন্ত মোট ৮৭ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৯ জনকে স্যালাইন দিয়ে অনশনের মধ্যে শুইয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার আইডিয়াল শিক্ষা নিকেতন স্কুলের শিক্ষক মো. শাহিনূর ইসলাম, রাজশাহী জেলার শিকড়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী প্রামাণিক, একই জেলার বিরল দুরুস সুন্নাহ আলীম মাদরাসার শিক্ষক ফেরদ্দৌস আলম, পঞ্চগড় জেলার বামনহাট বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. ইসহাক, সাতক্ষীরা জেলার এইচবিপি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের আলী হাসান প্রমুখ। এদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবারও অনশনে যোগ দিয়েছেন।’

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা গত ৫ জানুয়ারি কথা উল্লেখ করে বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে রাজপথ ছেড়ে নিজ নিজ স্কুলে ফিরে যান। আমাদের বিষয়টি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তা উল্লেখ না করে শিক্ষকদেরকে গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের ফুটপাতে থেকে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানান।’

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুন্নবী ডলার বলেন, ‘আর পারছি না। না খেয়ে রাস্তায় বসে অনশন পালনে শিক্ষক-কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তবুও আমাদের দিকে কেউ মুখ তুলে তাকিয়ে দেখছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা রাস্তায় মরে যাব। এ সময় দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি জানান তিনি।