,

বিখ্যাত দার্শনিক ইমাম গাজ্জালীর জীবনকথা

news-image

ইসলাম ধর্ম ডেস্ক: প্রত্যেক যুগেই পথহারা মানুষদের সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য ঐশীজ্ঞান সমৃদ্ধ এক বা একাধিক মনীষীর আবির্ভাব ঘটে এ ধরাতে। তারা নবী বা রাসুল নন; বরং বিশ্বনবী (সা.) এর নির্দেশিত পথে এবং তারই আদর্শের দিকে আহবান করেন মানবজাতিকে। তাদেরই একজন ছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক ও যুক্তিবিদ আল গাজ্জালী। তার পুরো নাম আবু হামেদ মোহাম্মদ আল গাজ্জালী। তবে তিনি ‘ইমাম গাজ্জালী’ নামেই খ্যাতি লাভ করেছেন। ‘গাজ্জাল’ শব্দের অর্থ সূতা কাটা। এটা তার বংশগত উপাধি। কারো মতে, পিতা মোহাম্মদ কিংবা পূর্ব পুরুষগণ সূতার ব্যবসা করতেন। তাই তাকে এ উপাধি দেওয়া হয়েছে। তিনি ১০৫৮খ্রিস্টাব্দে ইরানের খোরাসান প্রদেশের অন্তর্গত ‘তুস’ নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন এবং শৈশবেই তিনি পিতাকে হারান। তবে পিতার মৃত্যুতে তিনি নিদারুণ অসহায় অবস্থায় পড়েও সাহস হারাননি। জ্ঞান লাভের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। তাই তৎকালীন বিখ্যাত আলেম হযরত আহমদ ইবনে মুহাম্মদ বারকানী এবং হযরত আবু নসর ঈসমাইলের নিকট তিনি কোরআন, হাদীস, ফিক্হ ও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। কিন্তু তাতে অতৃপ্ত হয়ে জ্ঞান অন্বেষণে পাগলের মতো ছুটে যান তৎকালীন দুনিয়ার প্রধান বিদ্যাপীঠ বাগদাদের নিযামিয়া মাদ্রাসায়। সেখানে তিনি উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আব্দুল মালিক র. এর নিকট ইসলামী দর্শন ও আইন বিবিধ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। ইমাম গায্যালী (রহ.) ছিলেন লেখালেখি ও ভ্রমণপ্রেমী মানুষ। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে নিযামিয়া মাদরাসার রেক্টর নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন এ পদের জন্য নিযুক্ত সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষাবিদ।

ধর্ম-দর্শনে তার ছিল প্রভূত জ্ঞান। ধর্ম ও যুক্তির নিজ নিজ বলয় তিনি নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন- ‘আত্মা কখনও ধ্বংস হয় না কিন্তু দেহ ধ্বংস হয়’। আত্মা মৃত্যুর পর জীবিত থাকে। হৃদপি-ের সাথে আত্মার কোনো সম্পর্ক নেই। হৃদপি- একটি মাংসপি- মাত্র। মৃত্যুর পরও দেহে এর অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে। কিন্তু আত্মা মৃত দেহে অবশিষ্ট থাকে না। মৃত্যুর পর আত্মার পরিপূর্ণ উৎকর্ষ ও মুক্তি সম্ভবপর হয়ে থাকে’।
গ্রীক দর্শনের প্রভাব ইসলামী দর্শনের উপর রেখাপাত করে রেখেছিল। এমনকি ইসলামী দর্শন হয়ে পড়েছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য ইমাম গায্যালী নর. কলম হাতে নেন। তিনিই সেই সময় দর্শনের মর্ম মূলে ঝাঁকুনি সৃষ্টি করেন। ‘মাকাসেদুল ফালাসেফা’, ‘তাহাফাতুল ফালাসেফা’ গ্রন্থদ্বয়ে বিশ্লেষণ মূলকভাবে যুক্তিবিদ্যা, অধিবিদ্যা এবং প্রকৃতি বিদ্যা সারসংক্ষেপ পেশ করেন। এমনকি পূর্ণ নিরপেক্ষতার সাথে দার্শনিকদের দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা লিপিবদ্ধ করেন।

অংকশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। এ সম্পর্কে তাঁর বিশেষ বিষয় ছিল ম্যাজিক স্কোয়ার। সাবিত ইবনে কোরা ও ইমাম গাজ্জালী র. ব্যতীত অন্য কেউ ম্যাকিজ স্কোয়ার মুসলিম বৈজ্ঞানিকদের মনযোগ আকৃষ্ট করতে পারে নি। তিনি নক্ষত্রাদির গতি ও প্রকৃতি সম্বন্ধে দু’টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সম্ভবতঃ তাঁর এ গ্রন্থ দু’টি আজ বিলুপ্তি প্রায়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে চার সহ¯্রাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থই ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ শতাব্দিতে ইউরোপে অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করে। তাঁর প্রণীত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ১. এহইয়ায়ে উলুমিদ্দীন। ২. কিমিয়ায়ে সাআ’দাত। ৩. কিতাবুল মনফিদলিন আদ দালাল। ৪. কিতাবুত তাকাফাতুল কালাসিফা। ৫. মিশকাতুল আনোয়ার। ৬. ইয়াক্কুত্তাবলিগ। ৭. মনখুল প্রভৃতি গ্রন্থ সমগ্র ইউরোপ সমাদ্রিত হয় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ মহা মনীষী ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ইসলামের এক নবজাগরণ
ঘটিয়েছিলেন। তিনি ১১১১ খ্রিস্টাব্দের ৫০৫ হিজরী মোতাবেক সোমবার দিন ৫৫বছর বয়সে এ নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। বিশ্বিবিখ্যাত এ মনীষী চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন মুসলিম জাহানে।

লেখক: নির্বাহী পরিচালক, পানাহার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর