সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে মা ইলিশ

news-image

নিউজ ডেস্ক : যমুনা নদীতে অবাধে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধে কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা আদৌ কার্যকরী কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। দিন-রাতে জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে অবাদে মাছ শিকার করেই চলেছে।

প্রতিদিন গড়ে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকার যমুনা থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টন মা ইলিশ ধরা হচ্ছে। জেলেরা অভিযোগ করেন নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের টাকা ও মাছ দিতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ও কালিহাতী উপজেলার যমুনা নদীতে দিনে রাতে অবাধে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ। প্রতিদিন প্রায় ৪ শতাধিক জেলে যমুনা নদী থেকে গড়ে ১৮ থেকে ২০ টন মা ইলিশ মাছ ধরছে।

পরবর্তীতে ইলিশগুলো নিয়ে জেলেরা কয়েকটি পয়েন্টে একত্রীত হয়ে সাধারণ মানুষ ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি করছে মাত্র দুইশ থেকে তিনশ টাকা দরে।

কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন গোরিলাবাড়ি, বেলটিয়ার মুকতলা নামকস্থানে হাট বসিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব ইলিশ। আর প্রতিদিন ভোররাতে এসব জায়গায় ক্রেতারাও ভিড় করেন মাছ কিনতে।

এছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার বেলুর চর এলাকায় শত শত নৌকাযোগে জেলেরা ইলিশ নিয়ে সেখানে বিক্রি করছে। প্রকাশ্যে যমুনা নদীতে মাছ ধরা ও বিক্রি করলেও অজ্ঞাত কারণে মৎস্য বিভাগ বা নৌপুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের আফজালপুর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের ছত্রছায়ায় জেলেরা যমুনা নদী থেকে প্রকাশ্যে অবাধে মাছ ধরছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য নৌকা প্রতি ওই ইউপি সদস্যকে টাকাও দিতে হয় বলে জানান জেলেরা।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বেলুর চরে মাছ বিক্রি করতে আসা জেলেরা জানান, মাছ ধরা নিষিদ্ধ জেনেও পেটের দায়ে মা ইলিশ ধরে বিক্রি করছি। সরকারিভাবে কোনো অর্থ সহায়তা পাইনি। এছাড়া মাছ ধরতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের টাকা ও মাছ দিতে হয়। অনেক সময় প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে নদী থেকেই মাছ জোর করে ছিনিয়ে নেয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

গোহালিয়াবাড়ির আফজালপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, আফজালপুর পুরো গ্রামটাই নদীর মধ্যে। এখানকার সবমানুষই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। সরকারিভাবে কোনো অর্থসহায়তা তারা পায়নি। মেম্বার হিসেবে সবাইকে আমার সহযোগিতা করতে হয়। ইলিশ মাছ ধরা বন্ধের জন্য যদি সরকার আগে থেকে জেলেদের আর্থিক সহায়তা করতো তাহলে যমুনা নদী থেকে মা ইলিশ ধরা বন্ধ হতো।

বঙ্গবন্ধু সেতু নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবর আলী জানান, স্বল্পসংখ্যক লোকবল দিয়ে রাতে যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর। এছাড়া ফাঁড়িতে বরাদ্দকৃত বোডটি (নৌকা) অনেকদিন যাবত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বোড সংকটের কারণে মাছ ধরা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তারপরও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভূঞাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুম বিল্লাহ জানান, ভূঞাপুর যমুনা নদীতে মা ইলিশের মৎস্য জোন না থাকায় জেলেরা কোনো সরকারি অর্থ সহায়তা পাচ্ছে না। সারাদেশের ন্যায় ভূঞাপুরেও ইলিশ ধরা বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যমুনা নদীকে ইলিশ জোন ঘোষণা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর তা করা গেলে জেলেরা আগামী বছর থেকে সব রকমের সুবিধা পাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা