,

নিষ্ঠুরতা থেকে দেশ ও জাতি মুক্তি চায়

oborod-3প্রিয় বাংলাদেশ আজ এক রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে জ্বলছে আগুন। পেট্রোল বোমায় ঝলসে যাচ্ছে নিরীহ মানুষের দেহ। একে এক নিহতের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এ তালিকা থেকে নরী, শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না। দগ্ধিভুত নিষ্পাপ শিশুর করুণ আর্তনাদ প্রতিটি পিতা-মাতার হৃদয়কে আহত করছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘর থেকে মানুষ ধরে নিয়ে হত্যা করছে। নাশকতা কারীকে ‘দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ’, ‘যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ’ এসব নির্দেশের চক্রে দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ অসহায়। প্রতিটি ঘরে আতঙ্ক, উদ্বেগ। কেউ আইন-আদালত, সংবিধানের তোয়াক্কা করছে না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

মাত্র ক’দিনেই গুলিতে নিহত হলো দেশের সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকজন তরুণ ও যুবক। এডভোকেট ইমরুল কায়েস, আসাদুল্লাহ তুহিন, সাকিবুল ইসলাম আর এ তালিকায় সংযোজিত হলো অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীন। এসব পরিবারের কান্না, চোখের পানি আল্লাহর আরশকে কপিয়ে তুলছে। এই যদি হয় এদেশের আইন-শৃঙ্খলার চিত্র তাহলে কি দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরপত্তা ফিরে আসবে? দেশের আইন-আদালত ও বিচারাঙ্গনের প্রতি কি মানুষ শ্রদ্ধাশীল হবে? প্রতিকারের জন্য আদালতে যাওয়ার চেয়ে আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা কি বৃদ্ধি পাবে না! আইন সকলের জন্যই সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা বাহিনী প্রধান তাদেরও আইন মানতে হয়। তারা বন্দুক হাতে পেয়েই মানুষ হত্যা করার আইনগত এখতিয়ার পেতে পারেন না। বিচারের দায়িত্ব আদালতের। আদালত সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড দিতে পারে। কিন্তু বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করার ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হবে।

১৫ দিন যাবৎ রংপুরের আল-আমিন, তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও প্রতিবেশী মৌসুমী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্বেও আদালতে সোপর্দ না করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে দীর্ঘদিন আটকিয়ে রাখা সংবিধান, প্রচলিত আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। কোন রাষ্ট্রে এ ধরনের বেআইনী ও অসাংবিধানিক কর্মকান্ড কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। তাহলে প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় দেশ কি ‘রাষ্ট্র’ নামক প্রতিষ্ঠানিকতার পরিচয় থেকে বিচ্যুত হতে চলেছে!

যে পরিবারের একজন সদস্য খুন হলো সে পরিবারের কান্না অনন্তকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। যারা এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করছেন তাদের বিবেক কি নাড়া দেয় না? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা সদস্য তারাও কারো না কারো ভাই, কারো স্বামী, কারো পিতা, কারো পুত্র। একবার নিজ নিজ পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের কথা ভাবুন। এ পরিণতি যদি আপনার জন্য হয় তখন আপনার অবস্থা কি দাঁড়াবে! স্বজন হারানোর বেদনা অত্যন্ত নির্মম! এ নিষ্ঠুরতা থেকে দেশ ও জাতিকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। নিষ্ঠুরতা থেকে দেশ ও জাতি মুক্তি চায়।

এ জাতীয় আরও খবর

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

পূজার আয়োজনে ঘরেই বানান নারিকেলের নাড়ু

লোকসান ও বিদ্যুৎ বিলের চাপে বন্ধ হচ্ছে উল্কা সিনেমা হল

সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার কথা বলল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: রিজভী

মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিনের ছুটি, ছুটিতে থাকবেন না যারা

ঢাকায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার আভাস

ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

সেঞ্চুরির পর ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রশংসায় আগা সালমান

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সে সহিংসতা, অপরাধীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি ম্যাক্রনের

এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেভিয়াকে উড়িয়ে দিল রিয়াল