বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৪৮-এর মধ্যে মাছ শূন্য হবে পৃথিবীর সব সমুদ্র

86637_fishআন্তর্জাতিক ডেস্ক :আর দুই যুগ পরেই বাঙালির পাত ইলিশ শূন্য হবে। ম্যাকারেল মিলবে না আর ইংলিশ লাঞ্চের সঙ্গে। রসনা তৃপ্ত করতে পার পাওয়া যাবে না পমফ্রেট, ট্রাউট, বাস। আর মাত্র ২৪ বছরের মধ্যেই পৃথিবীর সমদ্রগুলো থেকে উধাও হবে মাছ। ইকোলজিস্ট ও ইকোনমিস্টদের একটি আন্তর্জাতিক দল অন্তত এমনটাই অনুমান করছে।

দূষণ, বাসস্থান ধ্বংস, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং ওভারফিসিং-এর কোপে পড়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে লুপ্ত হতে চলেছে সামুদ্রিক বা নোনা পানির মাছেদের প্রজাতি (স্পিসিস) গুলো।

হ্যালিফক্সের ডালহাউসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বরিস ওয়ার্মের নেতৃত্বাধীন এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও পানামার বহু গবেষক। 

তারা জানিয়েছেন তারা যা অনুমান করেছিলেন লাগাতার গবেষণার ফলে বুঝতে পেরেছেন বাস্তবটা আরো ভয়ঙ্কর। যে হারে সামুদ্রিক মাছেদের বিভিন্ন প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হচ্ছে তা রীতিমত ভয়াবহ। ধীরগতিতে নয়, বরং এই ধ্বংসলীলা চলছে ভীষণ দ্রুততার সঙ্গে। 

গবেষকরা আশঙ্কা করছেন যে ভাবে বায়োডায়ভার্সিটির পতন হচ্ছে সামুদ্রিক পরিবেশ আর মানুষের জীবনধারা বহন করতে পারবে না।

ইতিমধ্যেই ২৯% খাদ্যযোগ্য সামুদ্রিক মাছের প্রজাতি হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে সামুদ্রিক মাছের ক্ষেত্রে এই হারটা ৯০%।

সামুদ্রিক মাছের গুরুত্ব কিন্তু শুধু আমাদের খাবার প্লেটেই শেষ হয়ে যায় না। সামুদ্রিক মাছেরা পানির বিষাক্ত পদার্থ ফিল্টার করে। শোরলাইন রক্ষা করে। রেড টাইডের মতো অ্যালগাম ব্লুম প্রতিরোধ করে। অর্থাৎ সামুদ্রিক মাছেদের অবর্তমানে আসলে ধ্বংস হয়ে যাবে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র। বাড়বে দূষণ। সমুদ্রে বাস্তুতন্ত্র, বায়োডায়ভার্সিটির পতন সরাসরি প্রভাব ফেলবে মানুষের সভ্যতার উপর। সোজা কথায় মানুষ সভ্যতা, জীবন সরাসরি ধ্বংসের খুব কাছাকাছি চলে আসবে।

সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে অত্যাধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলছে ব্যাপকহারে সমুদ্র দূষণ। এখনই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ফলাফলা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

 

ভিন্ন ভিন্ন সামুদ্রিক পরিবেশে ৩২ রকমের পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

 

পৃথিবীজুড়ে ১২টি সামুদ্রিক অঞ্চলের ১,০০০ বছরের ইতিহাসের উপর সমীক্ষা চালিয়েছেন। ৬৪টি বৃহৎ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ফিশরি ডেটা নিয়ে কাজ করেছেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন সমস্ত রকম সামুদ্রিক প্রাণ গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রগুলির বৈচিত্র বেঁচে থাকার রশদ সরবরাহ করে। সমুদ্র তীরবর্তী যে অঞ্চলগুলিতে জীব বৈচিত্র সর্বাধিক, সেই সব অঞ্চলগুলি সর্বাপেক্ষা স্বাস্থ্যকর।

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন এখনো খুব দেরি হয়ে যায়নি। এখনই যদি বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের রক্ষা করার উদ্যোগ নেয়া হয়, তাহলে হয়ত টিকে যেতে পারে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র। আর তার সঙ্গেই টিকে যেতে পারে মানব সভ্যতাও।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা