,

ইরাকে মানবেতর অবস্থায় আছেন বাংলাদেশিরা

irakkইরাকে বাংলাদেশিরা এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে আছেন। তাঁরা শিকার হচ্ছেন নির্যাতনের। তাঁরা শিয়া-সুন্নি উভয় পক্ষের হাতেই মার খাচ্ছেন। অনেকে দেশে ফিরে আসতে চাইলেও সুযোগ পাচ্ছেন না। আর কেউ কেউ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইরাকের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ৪১ জন বাংলাদেশি মঙ্গলবার দেশে ফিরে এসেছেন। গতকাল সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান তাঁরা। তাঁদের কথায়, ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিরা খুবই ভীতিকর অবস্থায় আছেন। অনেক সময় ইরাকি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তাঁদের নির্যাতনের শিকারও হতে হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন ইরাক ফেরত শ্রমিক জানান, শুধু সুন্নি বিদ্রোহী নয়, তাঁরা শিয়া নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেও নির্যাতিত হয়েছেন। সুন্নি পরিচয় পেলেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা তাঁদের ওপর নির্যাতন করছে। বন্দুকের নল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়েছে। তাই ভয়ে তাঁরা নিজ খরচে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার সাইফুল ইসলাম তাঁর ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমার দাড়ি ছিল, পাসপোর্ট আছে। তারপরও আমার ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। আমার পায়ের গোড়ালিতে বার বার আঘাত করেছে তারা।
জিম্মি দশায় নির্যাতনের শিকার অপর এক বাংলাদেশি শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের ওপর যে পরিমাণ নির্যাতন হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সেই ঘটনা মনে পড়লে এখনো আমাদের গা শিউরে ওঠে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসতে প্রত্যেককে বিমানের টিকিট বাবদ খরচ করতে হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। টাকার অভাবে আরো প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক দেশে ফিরতে পারছেন না বলেও জানান তাঁরা।
জিম্মি দশা থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা শ্রমিক আবু বকর বলেন, আমার বাড়ি থেকে ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পাঠিয়েছে, তাই আমি দেশে আসতে পেরেছি। আমার মতো অসংখ্য মানুষ ইরাকে রয়েছেন, যাঁরা এই টাকা জোগার করতে না পারায় দেশে ফিরতে পারছেন না। ইরাকে বাংলাদেশি দূতাবাসের বিরুদ্ধে তাঁরা নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে বলেন, আমাদের ওপর এত অত্যাচার সত্ত্বেও সেখানকার প্রতিনিধি কোনো উদ্যোগ নেয়নি৷ দূতাবাসে ফোন করার পর তারা শুধু বলেছে আমরা দেখছি।
ফিরে আসা এই শ্রমিকরা বাগদাদ এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তাঁরা জানান যে, মসুলে এক হাজার ৫০০ বাংলাদেশি আছেন, যাঁরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের ১৪ হাজার নাগরিক এখন ইরাকে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। তাঁরা প্রধানত নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন। তবে বাস্তবে সেখানে ৩০ হাজারের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক আছেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই আরো ২৭ জন বাংলাদেশি নিজ খরচে ইরাক থেকে দেশে ফিরে আসেন। যদিও বাংলাদেশ সরকার এর আগে সরকারি খরচে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার কথা বলেছিল।

সূত্র : -কালের কণ্ঠ

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা