,

তোমার হাসি এখনো কাঁদায় দোলন

dolonপাভেল রহমান : ছয়-সাত বছর আগের কথা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাহিত্য একাডেমির কর্মকান্ডের সঙ্গে এতোটাই পাগলের মতো যুক্ত ছিলাম। ২৪ ঘন্টাই কাটতো সাহিত্য একাডেমির বন্ধুদের সঙ্গে। এদিকে আমাদের সবার প্রিয় শিক্ষক সোপান স্যার, প্রিন্সিপাল হিসেবে একটা নতুন স্কুল এন্ড কলেজের দায়িত্ব নিয়েছেন।
সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডকে উপলক্ষ করে প্রায়ই যেতাম স্যারের স্কুলে। নিয়মিত আসা-যাওয়ায় স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তা-শিক্ষার্থিদের সঙ্গে বেশ ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। স্কুলের কয়েক শত শিক্ষার্থির মধ্যে বেশ আলাদাভাবেই চোখে পড়তো এই মেয়েটিকে।
মেয়েটির নাম দোলন। পুরো স্কুলের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থির মধ্যে একজন। সর্বশেষ পরীক্ষাটাতেও ৯৯০ নম্বর পেয়েছিলো। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম হতো দোলন। স্কুলে যখনই যেতাম দোলনের নিস্পাপ হাসি দেখে মুগ্ধ হতাম। শত ভিড়ের মধ্যেও একটা ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে দোলন এসে বলতো ভাইয়া কেমন আছেন?
একদিন স্কুলে গিয়ে সোপান স্যারের কাছ থেকে শুনেছিলাম দোলনের ক্যান্সার হয়েছে। ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি আছে দোলন। সেদিন মনের অজান্তেই চোখ থেকে অনেক জল ঝরেছিলো। ঢাকায় এসে দেখতে গিয়েছিলাম পিজি হাসপাতালে। হাসপাতালের বেডে শুয়া লিকলিকে একটা মেয়ে, এমন দোলনকে আমি কখনো দেখি নি। দোলন মানেই ছিলো হাসির অন্য নাম।
কঙ্কালসার দেহ নিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে দোলন আমাকে বলেছিলো ভাইয়া কেমন আছেন? সেদিন হাড় জিরজিরে দোলনের ঠোঁটে দেখছিলাম শেষ হাসি। এর দৃই দিন পর সোপান স্যারের কাছ থেকে শুনেছিলাম দোলান মারা গেছে। ক্যান্সারের ভয়াল থাবা থেকে ফিরতে পারে নি, আমার সদা হাস্যজ্বল বোনটি।
স্কুলে দোলনের বন্ধুরা টিফিনের টাকা তুলে দিয়েছিলো দোলনের চিকিৎসার জন্য। সোপান স্যারকে আমরা বলেছিলাম স্যার দোলনের জন্য ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করবো। স্যার বলেছিলেন দোলনের পরিবার চিকিৎসার কোন অবহেলা করছে না, টাকা সমস্যা না। স্কুল থেকেই কয়েক লাখ টাকা উঠে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন দোলনকে বাঁচানো যাবে না, চিকিৎসা শাস্ত্র দোলনকে বাঁচাতে পারবে না।
আমার এই বোনটি বাঁচে নি। দোলনের বন্ধুরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ে। তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়, দোলন প্রসঙ্গ এলেই চোখ জুড়ে পানি আসে। আজও মিস করি এই বোনটাকে। 
এ জনমে তোমার হাসি অনেক মিস করবো দোলন। পরের জনমে যদি দেখা হয় তবে নিশ্চয় হাসি দিয়ে বলবে ভাইয়া কেমন আছেন? আমার কাছে ক্যান্সারের সমার্থক শব্দ হয়ে আছো তুমি। কোথাও ক্যান্সার নিয়ে কোন কথা হলে আমার চোখে ভেসে উঠে তোমার হাসি।
ক্যান্সার এমন সুন্দর হাসিকে কেড়ে নেয় কেন? মৃত্যু এতো অপ্রস্তুত হয়ে আসে কেন? সবাইকে মরতে হয়, কিন্তু দোলনরা কেন এভাবে মরে যায়? যেখানেই থাকো ভালো থাকো বোন…

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে