,

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না

news-image

জিয়াদুল ইসলাম
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরও দুশ্চিন্তা যেন কাটছেই না। প্রায় প্রতিদিনই জরুরি ও প্রয়োজনীয় কোনো না কোনো পণ্যের আমদানি দায় মেটানোর জন্য রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে। মূলত বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার চেয়ে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়েই রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

এতে প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে রিজার্ভ। এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের প্রায় ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনশেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার।

জানা গেছে, বিলাসী পণ্য আমদানিতে শতভাগ এলসি মার্জিনের শর্তারোপের পর জুলাই এবং আগস্ট মাসে আমদানির জন্য এলসি খোলা কিছুটা কমেছে। তবে আগের বকেয়া আমদানির এলসি নিষ্পত্তির জন্য অনেক ব্যাংকে-ই ডলারের সংকট আছে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতির পর বিদেশ ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাতে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বেড়েছে। এতে ডলারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এ সংকট মেটাতে এবং টাকা ও ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন আমদানিতে সংকট হলেই রিজার্ভ থেকে ডলার দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবারও কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস ১ দিনে (১ জুলাই থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) রিজার্ভ থেকে ২৫৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এ হারে যদি ডলার বিক্রি করা হয়, তা হলে অর্থবছর শেষে ডলার বিক্রির নতুন রেকর্ড করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ ব্যাপক চাহিদার পরও গত অর্থবছরের পুরো সময়ে রিজার্ভ থেকে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই রিজার্ভ থেকে এক অর্থবছরে এত ডলার বিক্রি করা হয়নি।

মহামারী করোনা সংক্রমের ঊর্ধ্বগতির সময়ে আমদানিতে ধীরগতি এবং প্রবাসী আয়ে উড়ন্ত গতির ওপর ভর করে গত বছরের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ প্রথমবার ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর পর থেকে রিজার্ভের পরিমাণ কমতে শুরু করে। গত ১২ জুলাই আকুর ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। ওইদিন রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। এর পর থেকে রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই অবস্থান করছে। তবে চলতি সপ্তাহেই আকুর দেনাবাবদ ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটা পরিশোধ করার পর রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটা হলে সোয়া দ্বুছর আগের অবস্থানে নেমে যাবে রিজার্ভ। যদিও প্রকৃত হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ আরও কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এ দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

ডলার সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। বেড়েই চলেছে মার্কিন ডলারের দাম। ফলে ক্রমশ কমছে টাকার মান। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, প্রতি ডলারের দাম এখন ৯৫ টাকা। তবে এ দামে কোথাও ডলার মিলছে না। ব্যাংকগুলো এখনো আমদানি এলসি নিষ্পত্তিতে ১০৫-১০৬ টাকা আদায় করছে। আর খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১০ টাকায়। অবশ্য কিছুদিন আগে খোলাবাজার ডলারের দর ১২০ টাকায় উঠেছিল। ব্যাংকেও নগদ ডলারের দাম ১১৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

 

এ জাতীয় আরও খবর

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দিনাজপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরকুট’

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন অনুকরণীয় ব্যক্তির সাক্ষাৎ

আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

উত্তরায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, কারণ শর্ট সার্কিটের সন্দেহ

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ডুবল সিঙ্গাপুরের জাহাজ

ইউক্রেনে স্টারলিংক সীমিত, ড্রোন প্রতিরোধে সংকট

মেসির অ্যাসিস্টে জয়, প্লে-অফে ইন্টার মায়ামি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর