,

ডেথ রেফারেন্স মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ

news-image

কবির হোসেন
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ছয় বছর আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলাটি এখন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় আছে। আসামিদের মৃত্যুদ- অনুমোদন ও আপিলের ওপর শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক তৈরি করা হয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। এখন একটি বেঞ্চ নির্ধারণ হলেই এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে শুনানি শুরু হবে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেছেন, বিচারিক আদালতের রায়ের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাইকোর্টে দ্রুত এই স্পর্শকাতর মামলাটির শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধান বিচারপতির কাছে আমরা একটি আবেদন দেব, যাতে দ্রুতই বেঞ্চ গঠন করা হয়।

হলি আর্টিজানের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ওই ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত রায় দেন ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর। রায়ে নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। এরপর আইন অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে একই বছরের ডিসেম্বরে হাইকোর্টে পাঠায় বিচারিক আদালত। এছাড়াও আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল করেন। এখন আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির পালা।

তবে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আদালতের কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতিতে ভাটা পড়ে। এ কারণে এই ডেথ রেফারেন্স মামলাটির বিচার আর এগোয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতি না থাকলে এত দিনে হয়তো শুনানি শুরু হয়ে যেত।

এর আগে হামলার দুই বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচার। এক বছরের মাথায় বিচারিক আদালত রায় দেন। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আট আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদ- ও একজনকে খালাস দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র?্যাশ, হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে সাগর, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। আর খালাস পান মিজানুর রহমান। দণ্ডিত সবাই কারাগারে আছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর প্ল­টের হলি আর্টিজান ও কিচেন রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় ৯ জন ইটালির নাগরিক, ৭ জন জাপানি নাগরিক, ১ জন ভারতের নাগরিক, ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও দুই জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৩ জন নিহত হন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর অপরাশেন থান্ডার বোল্ড অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত হয়। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার জের ধরে পরবর্তীতে সারাদেশে পুলিশ ও র‌্যাব ২৭টি জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায়। এতে ৭৩ জন জঙ্গি (পুরুষ ও নারী) নিহত হয়। অভিযান চালাতে গিয়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং চারজন উৎসুক জনতা নিহত হন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় মহানগর প্রভাতী ট্রেনের যাত্রাবিরতি : কসবাবাসী উল্লাসিত

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দিনাজপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরকুট’

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন অনুকরণীয় ব্যক্তির সাক্ষাৎ

আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

উত্তরায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, কারণ শর্ট সার্কিটের সন্দেহ

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ডুবল সিঙ্গাপুরের জাহাজ

ইউক্রেনে স্টারলিংক সীমিত, ড্রোন প্রতিরোধে সংকট

মেসির অ্যাসিস্টে জয়, প্লে-অফে ইন্টার মায়ামি