,

নদী ভাঙনের আতঙ্কে টুঙ্গিপাড়ার ৬৫ পরিবার

news-image

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম (৬০)। পরিবার নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন এই গ্রামে। সাত কাঠা জায়গা জুড়ে ছিল তার বাড়ি। সেখানে ছিল বিভিন্ন ফল গাছ ও ধানের জমি। কিন্তু নদীভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু মাথা গোঁজার জায়গাটুকু আছে এই নারীর।

শুধু ফরিদা বেগম নয় তার মতো একই অবস্থা ওই গ্রামের নদীপাড়ের ৬৫টি পরিবারের। তারাও রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে। কখন ভিটে মাটিটুকু চলে যায় নদীগর্ভে, এই চিন্তায় ঘুম নেই তাদের।

একরাশ চিন্তা নিয়ে ফরিদা বেগম বলেন, বৈশাখ মাসে ঝড়-বৃষ্টিতে নদীর পানি ঘরে উঠে যায়। আর ভাদ্র মাসে পানি সবসময় বারান্দায় থাকে। এই যে নদী দেখছেন এখানে অনেক পরিবার বসবাস করত। সব বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। তাই এখন তারা বিভিন্ন স্থানে থাকছে। আবার কিছু লোক সরকারি ঘরে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে অনুরোধ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে আমাদের থাকার জায়গাটুকু রক্ষা করুক।

সরেজমিনে জানা গেছে, চরপাড়া গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৬৫টি পরিবার। বহু বছর ধরে অনবরত পাড় ভাঙতে থাকায় ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসী বিভিন্নভাবে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না।

অনেক পরিবার বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি হারিয়ে ভাড়া বাড়িতে আবার কেউ সরকারি ঘরে বসবাস করছেন। নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে এর প্রভাব পার্শ্ববর্তী সরকারি গুচ্ছগ্রামেও পড়বে। তাই নদী ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পূর্বে সহকারী কমিশনার ভূমি, ইউএনও, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। দ্রুত নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে ৬৫ পরিবারের মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও থাকবে না।

চরপাড়া গ্রামের হাসিবুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি এই নদীর ভাঙন। আমাদের যত জায়গা জমি ছিল সব নদীর মধ্যে চলে গেছে। তাই আমরা এখন ভাড়া বাড়িতে দিন কাটাচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের সবার আবেদন এখানে এমন কিছু একটা করে দিক যাতে ভাঙন রোধ করা যায়।

একই গ্রামের বৃদ্ধ আতিয়ার তালুকদার ও হাসি বেগম বলেন, এর আগে এসিল্যান্ড, ইউএনও, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে বলেছেন- ভাঙনরোধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কাজ হয় নাই। সবাই শুধু আমাদের আশ্বাস দিয়ে যায়।

একই গ্রামের তাহমিনা বেগম বলেন, পুরো গ্রাম নদীর ভেতরে চলে গেছে। এখানে যারা আছে সবাই ভূমিহীন লোক। কারো নিজস্ব কোনো জায়গা জমি নাই। আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙতে ভাঙতে এখানে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে আবেদন, ভাঙনরোধ করুন না হলে আমাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দেন।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, কয়েকমাস হলো আমি টুঙ্গিপাড়ায় যোগদান করেছি। নদী ভাঙনের ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ভাঙন ঠেকাতে কার্যকারী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, আপনাদের মাধ্যমে নদী ভাঙনের বিষয়টি জানতে পারলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড