,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  লাউচাষে বাম্পার ফলন, লাভবান হচ্ছে চাষীরা

news-image
তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  আশুগঞ্জ, বিজয়নগর, নাসিরনগর ও নবীনগরে দেশীয় পদ্ধতিতে   বিষমুক্ত শীতকালীন লাউ চাষ করে এলাকায় জনপ্রিয় চাষী হয়ে উঠছে কৃষকরা। খরচের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় নতুন ভাবে চাষীরা  বিষমুক্ত লাউচাষ দিকে ঝুঁকছেন।  বিষমুক্ত লাউ এবং লাউশাক পেতে বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতা ও সবজি বিক্রেতারা ভীড় জমান এসব চাষীদের জমিতে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত ক্ষেতের লাউয়ের চেয়ে এখনে উৎপাদিত লাউ অধিকমূল্যে কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, জমিতে বাঁশ ও সুতা দ্বারা তৈরি মাঁচায় বেয়ে উঠা গাছ যত্নের মার্ধ্যমে প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে। প্রতি এক বিগা জমিতে লাউ চাষ করতে খরচ হয় পনের থেকে বিশ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৬০/৭০ হাজার টাকা। মৌসুমী এই ফলন নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত একাধারে লাউ গাছে উৎপাদন হয়ে থাকে। খরচের তুলনায় লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দেশী লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।
লাউ চাষী শফিক মিয়া বলেন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার না করে জৈব সার ও নীমপাতার রস ব্যবহার করলে লাউয়ের রং ভাল থাকে ও খেতে খুব স্বাদ পাওয়া যায।আমাদের দেখাদেখি অনেক চাষীরা লাউয়ের বাগান করে অনেক বেশ লাভবান হচ্ছে।
আরেক চাষী কুদ্দুস মিয়া জানান, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে জৈবসার, কেঁচোসার এবং নীমপাতার রস ব্যবহার করে বিষমুক্ত লাউ পাওয়া সম্ভব। এ বছর ভাল ফলন হয়েছে এবং চলতি মৌসুমে লাভের স্বপ্ন দেখছেন লাউ চাষিরা। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কোন প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার না করে পরিচর্চা করায় এখানে চাষকৃত লাউ খেতে খুব সুস্বাদু।
জেলা কৃষি অফিস অফিস, বিষমুক্ত লাউ ও লাউশাকের চাষের জন্য চাষীদের নিয়মিত অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। তারা রাসায়নিক সার, কীটনাশক ঔষধ বাদ দিয়ে জৈব ও কেঁচোসার ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন বিষমুক্ত লাউ। আর এতে চাষী ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হচ্ছে।