সাপের বিষ পাচারের রুট বাংলাদেশ, নজরদারিতে খামারিরা

news-image

সাপের খামার করার অনুমতি নেই দেশে। তাই সাপ, সাপের চামড়া বা বিষ রফতানির সুযোগও নেই। সাপের বিষ বেশ দামি হওয়ায় পাচারকারীদের পছন্দের বস্তু এটি। আর আশপাশের কয়েকটি দেশে বিষ পাচারের রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আসছে ওরা। আপাতত তাই বিষ পাচারকারীদের ধরতে খামারিদের ওপরই নজর রাখছে গোয়েন্দারা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিষ পাচার হয়। আবার কখনও সেসব দেশ থেকে এনেও বাংলাদেশ হয়ে অন্য দেশে নেওয়া হয়।দেশের আইনে সাপের বিষ কেনাবেচা ও পাচার দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা ফেনী, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লাসহ কয়েকটি এলাকায় একাধিক চক্র সাপের বিষ সংগ্রহ ও চোরাচালানে জড়িত।

সম্প্রতি দুটি অভিযানে সাপের বিষসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিষ পাচারকারীদের কয়েকটি সিন্ডিকেটের সন্ধান মিলেছে। বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া সাপের বিষের লেভেলিং দেখেই বোঝা যায় এগুলো বিষধর সাপের বিষ। পরে পরীক্ষার জন্য এগুলো পাঠানো হয় পরীক্ষাগারে।

লে. কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানে থেকে সাপের বিষসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়াও চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি রামপুরার চৌধুরীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। সাম্প্রতিক অভিযানে সাপের বিষ উদ্ধার হওয়ার পরই বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তদন্তে এগুচ্ছে র‌্যাব। দেশের যে কয়েকটি জায়গায় সাপের খামার রয়েছে, তাদের আয়ের উৎসের সন্ধানও করা হচ্ছে। খামারগুলো নজরদারিতে রয়েছে।

জানা গেছে, প্রক্রিয়াজাত করা এক গ্রাম ভাইপার রাসেলের বিষের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ ছাড়া কালচিতি সাপের বিষের দাম গ্রামপ্রতি তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা। আবার বিভিন্ন সামুদ্রিক সাপের বিষের মূল্য প্রায় চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকাও হয়। বাংলাদেশে ১৬ প্রজাতির বিষধর সাপ আছে, যার বিষ অত্যন্ত মূল্যবান।

সূত্র জানায়, দেশি-বিদেশি চোরাচালান চক্র প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার গোখরার বিষ পাচার করছে দেশ থেকে। রফতানির সুযোগ না থাকাতেই পাচার হচ্ছে এগুলো। পাশের দেশ ভারত ও ইউরোপের ফ্রান্সে বেশি পাচার হয় বলে জানা গেছে। ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় ৫টি চক্র সাপের বিষ পাচারে জড়িত বলেও জানিয়েছে সূত্র।

বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেউ যদি অবৈধভাবে সাপের বিষ উৎপাদন ও আহরণ করে বিক্রির চিন্তা-ভাবনা করেন তবে সেসব খামার বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের যে কয়টি খামার রয়েছে সেগুলো থেকে বিষ উৎপাদন করা কিন্তু খুবই কঠিন।’তিনি আরো বলেন, বিষ পাচারে চীন, ভারত, মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে বাংলাদেশ ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিআইডির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতবছরের ১৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের বাসন এলাকা থেকে সাপের বিষ পাচারকারী চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এই মামলার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে একই বছরের ২৫ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আরো কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।’

তার মতে, দেশে কয়েক ধাপে সাপের বিষ পাচারের সিন্ডিকেট কাজ করে। আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের সঙ্গে তাদের যোগাসাজশ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী