নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক : নতুন বাড়িতে ওঠা যেমন আনন্দের, তেমনি এতে ছোট ছোট অনেক কাজের তালিকাও থাকে, যা দ্রুত জমে যেতে পারে। বিদ্যুৎ সংযোগ স্থানান্তর করতে ভুলে যাওয়া, নতুন ঠিকানা আপডেট না করা- এসব ছোটখাটো বিষয় নতুন বাড়িতে প্রথম সপ্তাহটিকে বেশ ঝামেলাপূর্ণ করে তুলতে পারে। সামান্য পরিকল্পনা থাকলে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে ওঠে। জেনে নিন, নতুন বাড়িতে ওঠার সময় কোন কোন জরুরি বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন-
স্থানান্তরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি
অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন। তারিখসহ একটি চেকলিস্ট তৈরি করুন; কোন জিনিসগুলো সঙ্গে নেবেন, কোনগুলো দান করবেন বা ফেলে দেবেন তা ঠিক করে ফেলুন। প্যাকার্স বা গাড়ি আগেভাগেই বুক করে রাখুন। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে বা মাসের শেষে, যখন এগুলোর চাহিদা বেশি থাকে। প্রতিটি ঘরের জিনিস আলাদা আলাদা করে প্যাক করুন, প্রতিটি বাক্সের গায়ে সেটি কোন ঘরের এবং ভেতরে কী আছে তা লিখে রাখুন। ভঙুর জিনিসপত্র এবং ভারী বই ছোট বাক্সে রাখুন। ওষুধ, চার্জার, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রসাধন সামগ্রী, অতিরিক্ত পোশাক এবং রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে একটি আলাদা ব্যাগ তৈরি রাখুন, যাতে প্রথম রাতে বাক্স খুঁজে হয়রান হতে না হয়। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে সেগুলোর তারের বিন্যাসের ছবি তুলে রাখুন।
ইউটিলিটি ও অন্যান্য জিনিস গুছিয়ে নিন
নতুন বাড়িতে ওঠার আগেই উভয় বাড়ির ইউটিলিটি সার্ভিসগুলোর ব্যবস্থা করে রাখুন। পুরোনো বাড়িতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিন, বকেয়া বিল পরিশোধ করুন এবং ব্রডব্যান্ড, ডিটিএইচ (DTH), গ্যাস ও অন্যান্য সাবস্ক্রিপশন বাতিল বা স্থানান্তর করুন। নতুন বাড়িতে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা যাচাই করুন; প্রয়োজনে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করুন বা আগের সংযোগ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিন। নতুন বাড়িতে ওঠার দিন উভয় বাড়ির মিটার রিডিং লিখে রাখুন এবং প্রমাণের জন্য ছবি তুলে রাখুন। এছাড়া বাড়ির মালিক বা সোসাইটির কাছ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (maintenance charges), পার্কিং ব্যবস্থা এবং নতুন করে ওঠার নিয়মকানুন সম্পর্কে জেনে নিন।
জিনিসপত্র খোলার আগে বাড়িটি পরীক্ষা ও পরিষ্কার করে নিন
সম্ভব হলে আসবাবপত্র পৌঁছানোর আগেই নতুন বাড়িটি একবার ঘুরে দেখুন। দেয়াল, ছাদ, জানালা, দরজা, তালা, কল, ড্রেন, সুইচ এবং বৈদ্যুতিক তারের অবস্থা পরীক্ষা করুন। কোনো ক্ষতি বা ত্রুটি থাকলে তা লিখে রাখুন এবং ছবি তুলে রাখুন; এটি পরে জামানত ফেরত পাওয়া বা মেরামতের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। এরপর পুরো বাড়িটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন, কারণ ঘর খালি থাকা অবস্থায় এটি করা অনেক সহজ। আলমারি ও তাক মুছে ফেলুন, বাথরুম ও রান্নাঘর পরিষ্কার করুন, ফ্যান ও ঘরের কোণ থেকে ধুলো ঝাড়ুন এবং মেঝে মুছে ফেলুন। যদি কীটপতঙ্গের উপদ্রব বা স্যাঁতসেঁতে ভাব চোখে পড়ে, তবে কোনো কিছু খোলার আগেই সেগুলোর ব্যবস্থা নিন।
আপনার ঠিকানা ও নথিপত্র আপডেট করুন
ঠিকানা আপডেট করার বিষয়টি বেশিরভাগ সময়েই উপেক্ষিত থেকে যায়। যেসব জায়গায় আপনার নতুন ঠিকানা জানানোর প্রয়োজন, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। এর মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড, বিমা পলিসি, কর্মস্থল, ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট, গ্যাস সংযোগ, স্কুল বা কলেজের নথিপত্র এবং অনলাইন শপিং অ্যাকাউন্ট। কিছু তথ্য অনলাইনে আপডেট করা যায়, আবার কিছুর জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ ও ঠিকানার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে পোস্ট অফিসে মেইল ফরওয়ার্ডিং (চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা) চালু করুন এবং বন্ধু-বান্ধব, পরিবার ও ডেলিভারি অ্যাপগুলোতে আপনার নতুন ঠিকানা জানিয়ে দিন। বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র, পরিচয়পত্রের প্রমাণ এবং বিভিন্ন রসিদ একটি ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন।
নতুন বাড়িটিকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করে তুলুন
নিরাপত্তাই সবার আগে। দরজার তালা বদলে ফেলুন বা নতুন চাবি তৈরি করে নিন; অন্তত নিশ্চিত করুন যে সব দরজা ও জানালা ঠিকমতো লক হচ্ছে কি না। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বরগুলো যেমন ভবনের নিরাপত্তারক্ষী বা নিকটস্থ হাসপাতালের নম্বর সংগ্রহে রাখুন। বৈদ্যুতিক সুইচ, এক্সটেনশন কর্ড ও গ্যাস সংযোগ পরীক্ষা করে দেখুন। এছাড়া হাতের কাছেই একটি প্রাথমিক চিকিৎসার কিট (ফার্স্ট এইড কিট) ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখুন। বাড়িতে শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে বারান্দা, জানালা ও বৈদ্যুতিক সকেটগুলো সুরক্ষিত করুন। এরপর বাড়িটিকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তুলুন: প্রথমেই বিছানা, রান্নাঘর ও বাথরুম গুছিয়ে নিন, গোপনীয়তা বজায় রাখতে জানালায় পর্দা লাগান, কিছু গাছ বা পরিচিত ঘরসজ্জার জিনিস দিয়ে সাজান। সব জিনিস একসঙ্গে না খুলে প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাক্স খুলুন ও গুছিয়ে নিন।











