বিপদসীমার ২০ সেমি ওপরে তিস্তার পানি

news-image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দুদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দুপুর ১২টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে পানির তোড়ে গত দুই দিনে সদর উপজেলা অন্তত ২৩টি বসতভিটা চলে গেছে নদীগর্ভে। জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, গড্ডিমারী ও পাটিকাপাড়া, আদিতমারী উপজেলার পলাশী, মহিষখোচা, দক্ষিণবালা পাড়া, কুটিরপাড় ও চর গোবর্দ্ধন এবং সদর উপজেলার কুলাঘাট, চর গোকুন্ডা, খুনিয়াগাছ, তিস্তা, কালীগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃীর্ণ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত পানির তোড়ে চর গোকুন্ডা এলাকার ২৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ওই এলাকার কেউ কেউ নদীর হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিরাপদে চলে যাচ্ছেন।

সকালের দিকে কথা হয় আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় এলাকার মোজাফ্ফর হোসেনের (৫৫) সঙ্গে।

তিনি বলেন, গত দু’দিন থেকে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটালেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কেউ’ই তাদের খোঁজখবর নেননি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না এলাকার হামিজার রহমান (৬০) বলেন, শুক্রবার থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বাড়ি ঘরে কোমর সমান পানি উঠায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বেকায়দায় আছেন বলেন জানান।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, দু’টি ইউনিয়নের ৪ হাজারের মতো লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন থেকে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র দোয়ানী ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকোশীলী রবিউল ইসলাম জানান, বৃষ্টি আর উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুপুর ১২টার দিকে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, এখন পর্যন্ত জেলার ৩টি উপজেলা থেকে ৭ হাজার লোক পানিবন্দি হয়েছেন বলে উপজেলা প্রশাসন থেকে তালিকা করা হয়েছে। তাদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যেই ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছেলেটাই ভোগালেন বাংলাদেশকে

শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর

এই নারী আমার স্ত্রী নন : গোলাম মাওলা রনি

এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলি, সেনা সদস্য আহত : আইএসপিআর

নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ জনও জড়ো হবেন না: রাশেদ খাঁন

নিউইয়র্কে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ প্রাণহানি

ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের

তিনি শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন-সর্বমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী: নাহিদ ইসলাম

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ