,

ইলিশের জৌলুশ হারাতে বসেছে চাঁদপুর

news-image

এম এ লতিফ,চাঁদপুর
ইলিশের জন্যই বহু বছর ধরে চাঁদপুরকে চিনত মানুষ। গত কয়েকবছর আগে এই চাঁদপুরকেই ইলিশের বাড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। অথচ কালের পরিক্রমায় ইলিশের সেই জৌলুশ হারাতে বসেছে চাঁদপুর। আগের মতো এখন আর সেই ইলিশের দেখা পায় না চাঁদপুরবাসী।

প্রায় প্রতিবছরই ইলিশের ভরা মৌসুমে (আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চল তথা সাগরের ইলিশসহ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ধরা পড়তো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। আর সেই ইলিশেই সরগরম থাকতো চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট। ফলে হাজার হাজার জেলে ও ঘাটের দেড় সহস্রাধিক শ্রমিকদের মধ্যেও চলতো উৎসবের আমেজ। কিন্তু ইলিশের আমদানি কমে যাওয়ায় সেই উৎসবে ভাটা পড়েছে অনেক। এমনকি এ পেশায় সম্পৃক্তরাও খুঁজছেন অন্য পেশা।

আলাপকালে চাঁদপুর মাছ ঘাটের শ্রমিক জয়নাল ও রহমান জানান, একসময় ইলিশের ভরা মৌসুমে কয়েক মাসের আয় দিয়েই পরিবারের সারা বছরের ভরণ-পোষণের ব্যাবস্থা করতাম। কিন্তু গেল কয়েকবছর চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ পাইনি। এ বছরও আমদানি একেবারেই কম।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ইলিশ প্রাকৃতিক সম্পদ। এটা কম বেশি হতেই পারে। তবে নদীর নাব্যতা সঙ্কটও ইলিশ ধরা না পড়ার কারণ হতে পারে। ইলিশ দলবেঁধে চলতে পছন্দ করে। এরা গভীর পানিতে পরিভ্রমণশীল মাছ। তবে চর-ডুবোচরে বাঁধাগ্রস্ত হলে এরা দিক পরিবর্তন করে ফেলে। তাই সেদিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে।

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা কামাল গাজী, জোবায়ের আলম বাপ্পী, লেলিনসহ একাধিক ক্রেতা বলেন, ঘাটে এসে শুনেছি ইলিশের আমদানি বেড়েছে। কিন্তু এসে দেখি দাম কমেনি। আমাদের মত সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দাম দিয়ে ইলিশ কেনা সম্ভব না। তাই না কিনেই ফিরে যাচ্ছি।

কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকা থেকে ইলিশ কিনতে আসা মোসলেহ উদ্দিন বলেন, আমরা কয়েক বন্ধু ইলিশ কিনতে এসেছি। তবে দাম বেশি হওয়ায় কম কিনেছি।

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বেড়েছে ইলিশ। তবে এর বেশিরভাগই সাগরের, পদ্মার ইলিশ একেবারেই কম। চাঁদপুর মাছঘাট সুত্রে জানা গেছে, গত ৪-৫ দিন ধরে প্রতিদিন দেড়-দুই হাজার মণ আমদানী করা ইলিশের মধ্যে চাঁদপুরের ইলিশ মাত্র ৫০ থেকে ৮০ মণ। বাকি ইলিশ হাতিয়া, ভোলা, চরফ্যাশনসহ দক্ষিণাঞ্চলের। তবে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ এক হাজার টাকা কেজি ও ১ কেজির ওপরের ইলিশ এক হাজার ১৫০ টাকা ও দেড় কেজি সাইজের ইলিশ এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পদ্মার ইলিশ প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।

চাঁদপুর মৎস্য ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত বলেন, চাঁদপুরে ইলিশ কম ধরা পড়া আমাদের জন্য শুভ নয়। আমরা ব্যবসায়ীরা চিন্তায় আছি। ইলিশ স্বাধীনচেতা মাছ। এই মাছকে নির্বিঘ্নে চলাফেরার সুযোগ করে দিতে হবে। অন্যথায় এরা দিক পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যায়। তাই আমাদের নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

সরকারি চাকরীজীবীরা কাজের সঙ্গে চুরিও করে: পরিবেশমন্ত্রী