,

হাতবদলের মারপ্যাঁচে ডিমের বাজার

news-image

 

রেজাউল রেজা
অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত মাসে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ডিম। বাজারে বিশেষ অভিযান ও অনুসন্ধানে উঠে আসে সিন্ডিকেটের তথ্য। বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ওই সময় একটি চক্র ১৫ দিনে ডিমে বাড়তি মুনাফা করেছে ১১২ কোটি টাকা। শেষমেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিম আমদানির হুশিয়ারি দিলে রাতারাতি দাম কমে যায়। কিন্তু সে স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। নজর সরাতেই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সুযোগ-সন্ধানীরা। খামারে দাম সেভাবে না বাড়লেও বাজারে হাতবদলের ‘মারপ্যাঁচে’ আবারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির ডিমের দাম এখন হালিতে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। ডজন উঠে গেছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে গত বুধবার দাম বেড়েছে, তাই খুচরাতেও বাড়তি।

মালিবাগ বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিমের দাম কমে ১২০ টাকা ডজন হলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

অল্পদিনের মধ্যেই দাম বাড়তে শুরু করে। কয়েক দফা দাম বেড়ে আজ ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। পাইকারিতেই আমাদের ১০০টি ডিমের দাম পড়ছে ১ হাজার ৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও তা ৯৮০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা গেছে।’

পাড়া মহল্লার অনেক দোকানেই ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। অর্থাৎ একেকটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ১২ টাকা পর্যন্ত।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিমের পাইকারি বাজারে দেখা যায়, পাইকারিতে আগের মতোই পাকা রশিদ ছাড়া ডিম কেনাবেচা চলছে। খামারি কিংবা স্থানীয় আড়তগুলো থেকে কী দামে কেনা, তা কেউ সঠিক জানেন না। রশিদ দেখাতে নারাজ তারা। অনেক আড়তে নেই মূল্যতালিকা। থাকলেও তাতে দাম লেখা নেই।

তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহর দাবি, ভারী বৃষ্টির কারণে ডিম সংগ্রহে ব্যঘাত ঘটছে; তাই সরবরাহ কম। এ ছাড়া পরিবহনে খরচ বেড়েছে; তাই দাম বাড়তি। যদিও তার দাবি, পাইকারিতে এখন ১০০টি ফার্মের ডিম ১ হাজার ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেজগাঁও পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পর বাজারে দাম কমেছিল। কিন্তু এখন তা আবার বাড়তি। এখানে রশিদ চলে না। সবকিছু ‘সিস্টেমে’ দাম নির্ধারণ হয়। ব্যবসায়ী সমিতি যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, সে দামেই বিক্রি হয়। এভাবেই চলে আসছে। কোনো পরিবর্তন নেই।

এদিকে খামারিরা বলছেন, খামারে দাম বাড়েনি। পাইকারে দাম বাড়ছে হাতবদলে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ‘ওরগানিক এগ্রোর’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. মিরাজুল হাসান ভুইয়া আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার ডিম বিক্রি হয়। গতকাল প্রতি পিস ডিমের দাম পেয়েছি ৯ টাকা ৪০ পয়সা, অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকারও বেশি দামে। উৎপাদন পর্যায়ে পণ্যমূল্য নির্ধারণ হওয়ার কথা থাকলেও আমরা ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর হাতে জিম্মি। তারা যে দাম বেঁধে দেয়, সে দামেই ডিম বিক্রি করতে হয়। পচনশীল হওয়ায় সে দামে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।’

খামারিরা স্থানীয় পাইকার ও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির বিশেষ কৌশলের বলি হচ্ছেন উল্লেখ করে ‘এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সভাপতি তাহের আহমেদ সিদ্দিকী আমাদের সময়কে বলেন, ‘বাজারে সরকারের অভিযানে দাম কমেছিল। এখন আবার আগের মতো চলছে। একটি চক্র খামারি ও ভোক্তাদের ঠকিয়ে আগেরবার বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবারও তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘুরেফিরে ব্যবসায়ী সমিতি ও মিডেলম্যানদের (মধ্যস্বত্বভোগী) হাতে খামারিরা জিম্মি। বাজারে আবারও অভিযান দরকার।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, ‘একদিক সামাল দিয়ে আরেকদিকে নজর দিলে আবার আগের জায়গায় চলে আসে। কিছুদিন আগেও আমাদের নেওয়া পদক্ষেপে ডিমের দাম কমেছিল। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা কমিশন থেকে কাজি ফার্মের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আমরা আমাদের অনুসন্ধানের পর্যবেক্ষণগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এর পরও মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিচ্ছে; এটা হতাশাজনক। আমরা একা কয় দিক সামলাব। ব্যবসায়ীদেরও নৈতিকতা থাকা প্রয়োজন। ডিমের বাজারে কোনো অস্থিরতা হলে প্রয়োজনে আবারও বিশেষ অভিযান চালানো হবে।’

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘ডিমের দাম মূলত আমদানির ঘোষণাতেই কমে গিয়েছিল। সরকার অবশ্যই চায় ডিম উৎপাদনে সম্পৃক্ত সবার উন্নয়ন হোক। তবে আমি মনে করি, এভাবে কারসাজি চলতে থাকলে আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত। হাতবদলের সংখ্যা কমাতে হবে। ডিমে বারবার ব্যবসায়ী সমিতির নাম উঠে আসছে। ব্যবসায়ী সমিতিগুলো ব্যবসায়ীদের ভালোমন্দ দেখার জন্য গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তাদের অতিরিক্ত মুনাফা করার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কেবল ডিম নয়, অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। এমনটা হলে প্রয়োজনে ব্যবসায়ী সমিতিগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। পাশাপাশি কারসাজিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না