শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এভারেস্টের বেজ ক্যাম্প সরাচ্ছে নেপাল

news-image

অনলাইন ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতচূড়া এভারেস্ট। তাই এর বেজ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল। বসন্তে এভারেস্টে আরোহণ মৌসুমে এই ক্যাম্প প্রায় দেড় হাজার মানুষ ব্যবহার করে। এটি দ্রুত গলতে থাকা খুম্বু হিমবাহে অবস্থিত।

নেপালের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতায় নতুন একটি স্থান পাওয়া গেছে, সেখানে সারা বছর বরফ থাকে না।

গবেষকরা বলছেন, গলতে থাকা পানিতে হিমবাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। আর পর্বতারোহীরা বলছেন, তারা ঘুমানোর সময় বেজ ক্যাম্পের চিড়গুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকে। নেপালের পর্যটন দফতরের মহাপরিচালক তারানাথ অধিকারী বলেন, ‘আমরা এখন স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং শিগগিরই সব অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবো’।

নেপালের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি মূলত বেজ ক্যাম্পে আমাদের দেখা পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং এটি পর্বতারোহণ ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই ক্যাম্পটি পাঁচ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। নতুন ক্যাম্পটি এর চেয়েও দুইশ’ থেকে চারশ’ মিটার নিচে হবে বলে জানান তারানাথ অধিকারী।’

এভারেস্ট অঞ্চলে পর্বতারোহণের সুবিধার্থে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নেপালের সরকারের গঠন করা কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষিতে হিমালয়ের অন্যান্য হিমবাহের মতো খুম্বু হিমবাহও দ্রুত গলছে এবং পাতলা হয়ে যাচ্ছে।

গবেষকদের একজন স্কট ওয়াটসন বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি বেজ ক্যাম্প এলাকায় বরফের পাতলা হওয়ার হার হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি কারণ সেখানে পাথর এবং পাথরের ধ্বংসাবশেষের একটি পাতলা আবরণ রয়েছে’।

পর্বতারোহী এবং নেপালের কর্তৃপক্ষ বলছে, বেজ ক্যাম্পের ঠিক মাঝখানের একটি স্রোত বছরের পর বছর বড় হচ্ছে। তারা আরও বলছেন হিমবাহের পৃষ্ঠে ফাটল এবং চিড় আগের চেয়ে বেশি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে।

সাগরমাতা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির (এসপিসিসি) সদস্য এবং এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পের ব্যবস্থাপক তাসেরিং তেনজিং শেরপা বলেন, ঘন ঘন বড় শব্দ শোনা যায়, এর কারণ পাথর পড়া কিংবা বরফ নড়ে যাওয়া। তিনি আরও জানান, বেজ ক্যাম্পে তাঁবু স্থাপন করার আগে বরফে আচ্ছাদিত পাথুরে পৃষ্ঠকে সমতল করা প্রয়োজন পড়ে এবং হিমবাহ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়ে সময়ে এটির পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন পড়ে।

নেপালের পর্যটন দফতরের মহাপরিচালক তারানাথ অধিকারী বলেন, ‘আমরা বেজ ক্যাম্পের প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত দিকগুলি মূল্যায়ন করেছি, তবে আমরা এটিকে স্থানান্তর করার আগে আমাদের স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সংস্কৃতির মতো অন্যান্য দিক বিবেচনা করে এটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমরা সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করেই করবো’।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা