বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ট্রোক হলে অপেক্ষা নয়, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিন

news-image

অধ্যাপক ডা. এমএস জহিরুল হক চৌধুরী
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে প্রতিটি সেকেন্ড হয়ে পড়ে তখন মূল্যবান। এক সেকেন্ডে ব্রেইনের কয়েক হাজার স্নায়ুকোষের ক্ষতি হয়। এক মিনিটে নষ্ট হয় প্রায় বিশ লাখ কোষ। একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা আর ঠিক করা যায় না। তাই দেরি না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। স্ট্রোক হওয়ার তিন থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

সিটি বা এমআরআই স্ক্যান করে দেখা হয়, রোগী কোন ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। ৮০ শতাংশ মানুষ ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ব্রেইনের ধমনিগুলো আটকে ছোট হতে থাকলে তাতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইস্কেমিক স্ট্রোক হলে টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাকটিভেটর ইঞ্জেকশন দিয়ে ব্লাড ক্লট খোলার চেষ্টা করা হয়। একে বলে থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি। অনেক রোগীই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। একদিকে প্যারালিসিস হয়ে গেছে, এমন রোগীও অনেকটা সুস্থ হন। আরেকটি স্ট্রোক হলো হেমোরেজিক স্ট্রোক। যখন ব্রেইনের দুর্বল রক্তনালিগুলো ছিঁড়ে যায় এবং ব্রেইনে রক্তপাত হয়, তখন ব্রেইনের টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে হয় হেমারেজিক স্ট্রোক। এ স্ট্রোক ইস্কেমিক স্ট্রোক থেকে অনেক গুণ বেশি ক্ষতিকর। মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে। তবে মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। যন্ত্রণার মাত্রা বেশি হলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন। হঠাৎ কোলাপ্স করে রোগী মৃত্যুও হতে পারে। তবে এসব স্ট্রোকের আগেই একটা ওয়ার্নিং স্ট্রোক হয়ে থাকে, যার নাম ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক।

কখনো কখনো এটি মিনি স্ট্রোক নামে আমরা অভিহিত করে থাকি। এ স্ট্রোক হয়ে থাকে আপেক্ষিক রক্ত জমে যাওয়া থেকে। এটি হওয়ার সময় রোগী তার মুখে, হাতে ও কথা বলতে হঠাৎ অক্ষম হয়ে পড়েন। দুর্বলতা দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় দুই থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত থাকে এ অবস্থা। এরপর আবার জমাট রক্ত সরে গেলে রোগী আবার সুস্থ মানুষের মতো হয়ে যান। তবে বেশিরভাগ রোগীই বোঝেন যে, খুব খারাপ কিছু একটা হয়েছে তার। তবু এ ধরনের রোগীর মধ্যে খুব কম রোগীই এ কারণে চিকিৎসকের কাছে যান চিকিৎসা করাতে।

ওই দুই থেকে পাঁচ মিনিট প্রবল কষ্টের সম্মুখীন হয়েও তারপর ঠিক হয়ে গেলে তারা মনে করেন, সবকিছুই আগের মতো ঠিক আছে। তিনি এখন সুস্থ- এমনই মনে করতে থাকেন। তারা বোঝেন না ওই ছোট্ট স্ট্রোকটিই এরপরের এগিয়ে আসা বড় স্ট্রোকের অশনি সংকেত ছিল। তবে ওই সময়ই যদি সঠিক চিকিৎসা নেওয়া শুরু করা যায়, তা হলে সারা জীবনের জন্য সেই প্রাণঘাতী স্ট্রোক থেকে দূর করা সম্ভব। মোটকথা, হঠাৎ অসম্ভব মাথার যন্ত্রণা শুরু হওয়া, হঠাৎ দুর্বলতা, মুখের প্যারালিসিস, হাত ও হাতের তালুর শক্তি চলে যাওয়া, পায়ে জোর না পাওয়া, শরীরের একপাশে পক্ষাঘাত, আচমকা চারদিক অন্ধকার লাগা, আকস্মিক জ্ঞান হারানো- এসবই স্ট্রোক হওয়ার পূর্ব লক্ষণ।

লেখক : অধ্যাপক; ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল

আগারগাঁও, ঢাকা

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি.

শ্যামলী শাখা, ঢাকা

০১৮৬৫৪৪৪৩৮৬; ০১৮৪৩৬১৬৬৭০

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে