,

পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ফলজ বাগান করে সফল সুশান্ত

news-image

নিউজ ডেস্ক : পরিত্যক্ত জমিতে বরইসহ বিভিন্ন প্রকার ফলজ বাগান করে সফল হয়েছেন রাঙ্গামাটির তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। কাপ্তাই হ্রদ ঘেষে থাকা রাঙ্গামাটির সদরের মগবান ইউনিয়নের সোনারাম কার্বারী পাড়া এলাকায় সুশান্ত তার পরিত্যক্ত দ্বীপে গড়ে তোলেন এ বাগান। যেখানে আপেল কুল,বল সুন্দরি, কাশমেরী ও দেশি এই চার জাতের মিষ্টি বরইসহ রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির ফলের গাছ।

পাহাড়ে গড়া বাগানের ফল বিক্রি করে সুশান্ত তার পারিবারিক চাহিদা মিটাচ্ছেন, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছেন। এ বছর সুশান্ত তার বাগান থেকে ৫-৬ লাখ টাকার শুধু বরই বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। তার এই মিশ্র বাগান দেখতে আসছে রাঙ্গামাটি কৃষি বিভাগসহ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। এছাড়াও তার বাগানে অনেক বেকার যুবক কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাপ্তাই হ্রদ বেষ্টিত রাঙ্গাপানি এলাকায় প্রায় ১০ একর পৈতৃক ওই পরিত্যক্ত পাহাড়ী জমিতে সুশান্ত বাগানটি গেড়ে তুলেন। মিশ্র বাগানের পাশাপাশি পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মিটাতে বিভিন্ন সবজি বাগানও গড়ে তুলেছেন সুশান্ত।

সফল কৃষি উদ্যোক্তা সুশান্ত গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে তার বাগানে ৪ প্রকারের বরইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আপেল কুল,বল সুন্দরি বরই, কাশমেরী বরই ও দেশি জাতের মিষ্টি বরই। সুশান্ত তার বাগানের উৎপাদিত এসব বরই বিক্রি করা শুরু করেছেন। সুশান্ত আশা করছেন, এ বছর তার বাগান থেকে ৫-৬ লাখ টাকার বরই বিক্রি করা যাবে। বরই ছাড়াও তার বাগানে বিদেশি জাতের রেড লেডি পেঁপে, বিলাতি ধনিয়া পাতা, লিচু, লটকন, মাল্টা, কলা, তেতুল, সুপারি, বেল, জাম্বুরা, নারিকেল, সুপারি,কাঠাল, রাম্বুটান, পেয়ারা, আলু বোখরা, দারু চিনিসহ বারোমাসি প্রায় ২০ ধরনের ফলের সমারোহ। এছাড়াও সুশান্তর বাগানে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এলাকার অনেক বেকার যুবকও।

সুশান্তর বাগানে কাজ করা বেকার যুবক চিক্ক চাকমা জানান, তারা ১০-১৫ জন বেকার যুবক সুশান্তর বাগানে কাজ করেন। এখানে কাজ করে তারা তাদের পারিবারিক চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছেন। অনেকেই সুশান্তকে দেখে এরকম বাগান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল জানিয়েছেন, সুশান্তের সফলতা দেখে তাকে সহায়তার পাশাপাশি তার নিজস্ব অন্যান্য পরিত্যক্ত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় এনে সেগুলোতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কফি ও কাজু বাদাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, রাঙ্গামাটিতে সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যার বাগান একটি আদর্শিক বাগান হিসেবেই আমরা মূল্যায়ন করছি। তাকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, পাহাড়ের অনেক জমি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে কৃষি বিভাগ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। মিশ্র বাগানকে সহায়তা করার পাশাপাশি সরকার পরিত্যক্ত জমিতে কফি ও কাজু বাদাম চাষের জন্য নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সুশান্তের বাগানটির অব্যবহৃত জমিগুলোও কফি ও কাজু বাদাম চাষের আওতায় আনা হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি

‘জেলার ২’ ১১ দিনেই ৭০০ কোটি আয়

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২২১৮

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তাকে অপসারণের দাবি টিআইবির

৭ নভেম্বর সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে

ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ চলছে : হুইপ দুলু

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর

মানবতাবিরোধী অপরাধ: প্রথমবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা আজম-আমু-শাজাহান

চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

গোলাপি আভায় জয়া আহসান