,

বিধিনিষেধের মধ্যে সক্রিয় থাকতে চায় বিএনপি

news-image

নজরুল ইসলাম
চলমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকার বিধিনিষেধ জারি করলেও বিএনপি মনে করে এটি রাজনৈতিক কারণে করা হয়েছে। এ অবস্থায় চুপচাপ না থেকে নতুন কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় থাকতে চায় দলটি। এ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচনা করে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও বিধিনিষেধ পর্যালোচনা করে কর্মসূচি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, জার্মানিভিত্তিক ডয়েচে ভেলের একটি জরিপে দেখা গেছে ৮৮ শতাংশ মানুষ বলেছে, রাজনৈতিক কর্মকা- বন্ধ করতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধির জন্য কাজটি করা হয়নি। যেখানে দেশের মানুষ এমনটি মনে করে, সেখানে আমাদের কর্মসূচি করতে তো কোনো বাধা নেই।

এদিকে, আগামীকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ‘বাকশাল দিবস’ পালন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর ছাড়াও ভার্চুয়াল এ কর্মসূচি বিদেশেও করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব মহানগর ও জেলায় ২৫ জানুয়ারি দিনটিকে ‘বাকশাল দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। বিএনপি গঠিত মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি ওইদিন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেটা ঘরোয়া বা ভার্চুয়ালি হোক, কর্মসূচি আমরা দেব। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের নানা অন্যায়, অনিয়ম দুর্নীতি এবং খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানানো হবে। সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির সভায় আর্থিক ও ব্যাংক খাতের নানা দুর্নীতি সম্পর্কে জাতিকে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। এভাবেই দলকে সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জেলায় জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি করছিলাম। প্রথম দফায় নানা বাধার পরও ২৮ জেলায় সমাবেশ করেছি। নেতাকর্মীরা বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় দফায় ৩৯ জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ৭ জেলায় সমাবেশ করার পর বিধিনিষেধের কারণে বাকি জেলার কর্মসূচি আজ ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনর্নির্ধারিত করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা বলেন, বিধিনিষেধের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া ‘একতরফাভাবে’ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। এদিকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। বিধিনিষেধের মধ্যে সরকার তার সব ধরনের কার্যক্রম করে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, গণপরিবহন, বাণিজ্যমেলা প্রায় সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। এ অবস্থায় বিএনপির চুপচাপ থাকা সঠিক হবে না বলে মনে করেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

এই নিয়ে ১৭ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকেও আলোচনা হয়। সেখানে সরকারের বিধিনিষেধ ও দলের পরবর্তী কী কর্মসূচি করা যায় তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে। ওই বৈঠকে কোনো কোনো নেতা জেলা সমাবেশ পুনরায় শুরুর পক্ষে মতামত দেন। আবার কোনো কোনো নেতা বৈশ্বিক করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে কর্মসূচি করা সমীচীন হবে না বলে মত দেন।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র- এ দুটিকে ভিত্তি ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক নানাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, এবার পরিস্থিতি বুঝে এগোতে চান তারা। যেহেতু বিগত ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮- এ নির্বাচন তিনটিতে ভোটাধিকারের প্রতিফলন জনগণ দেখতে পায়নি, এবার তারা সেই ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চান।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ঘরেই বানান জিভে জল আনা ‘চিড়া-মুগ ক্ষীর’

হাঁটতে বেরিয়ে সড়কে প্রাণ গেল ২ নারীর

‘সুখের মতো অসুখ’র দিনগুলোতে রবীন্দ্রনাথ

দুর্গাপূজাকে ঘিরে অপশক্তি চক্রান্ত করতে পারে: রিজভী

নবীনগরে সততা ব্রিকস ফিল্ডে ডাকাতি, নাইটগার্ড ও ম্যানেজারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মামলা করলে হত্যার হুমকি

ঢাকায় আজ বৃষ্টি হবে কি?

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার

দুর্নীতিবাজ গ্রেপ্তারে আবার সক্রিয় হচ্ছে দুদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান

সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, বিক্ষোভে প্রার্থীরা