,

প্রিয় পোষামাছ

news-image

সাজ্জাক হোসেন শিহাব : কবিরের বাড়ি গ্রামে। ওর বাড়ির পাশেই ছিল একটা ফাঁকা জায়গা। সেখানে ছিল একটা ছোটখাটো গর্ত। কয়েকহাত জায়গা নিয়ে ছিল গর্তটি। বৃষ্টির কারণে সেই গর্তে জমে ছিল বেশ পানি। হাঁটুখানিক তো হবেই। কবির ঐ গর্তেই ছেড়েছিলও দুটো মাগুর মাছ। তার বাবা বাজার থেকে একদিন অনেকগুলো ছোটছোট মাগুর মাছ নিয়ে এসেছিল। সেখান থেকে সে  দুটো মাগুর লুকিয়ে ছেড়েছিল এই ছোট্ট জলাশয়ে। প্রতিদিন কবির মাছ দুটোকে খেয়াল করতো। মাঝেমাঝে লুকিয়ে সেখানে ভাত ছড়িয়ে দিত। ঐ ছোট্ট জলাশয়ে যে মাছ থাকতে পারে তাও কেউ ভাবতেও পারেনা।  তাই কবিরের বাবা-মাও সেটা টের পায় না। কবির স্কুল থেকে ফিরে, স্কুলে যাবার সময় নানান অজুহাতে ওখানে একটু উঁকি মারতো। সে মাঝেমাঝে মাগুর মাছের সাথে কথা বলতো। এভাবে একদিন, দুইদিন করতে করতে ছোটমাছ মাগুরদুটো আস্তে আস্তে বড়ো হতে থাকে। গর্তের পানি শুকিয়ে গেলে কবির সেখানে বালতি দিয়ে নলকূপ থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে পানি দিয়ে আসে। নতুন পানি পেয়ে মাগুরদুটো ছটফট করে লাফাতে থাকে। মাঝেমাঝে লেজ দিয়ে পানিতে পাক মারে আবার থেকে থেকে মাথা তুলে চায় আকাশে। ছোটমাগুর দুটো এভাবে আস্তে আস্তে বড়ো হয়ে যায়। এভাবে প্রায় ছয়মাস কেটে যায়। একদিন কবিরের আদরের মাছগুলো ধরা পড়ে তার মা আর বাবার চোখে। তারা কবিরকে কিছু  বলে না। এটা দেখে লুকিয়ে লুকিয়ে তারাও সেখানে খাবার দেয়। পানি দেয়। বাড়তি খাবার, পানি পেয়ে মাছদুটো আরো বড়ো হয়ে যায়। কবিরের বাড়ির পাশেই থাকতো মতিন নামের এক লোভী লোক। একদিন সকালে ঐ  পথ দিয়ে যাবার পথে তার চোখে পড়ে মাছদুটো। সাথে সাথে পানি সেঁচে সে মাছগুলো ধরে নিয়ে যায় নিজ বাড়িতে। দুর্ভাগ্যক্রমে সেদিন কবির, তার মা আর বাবা কেউই বাড়িতে ছিল না। সবাই গিয়েছিল কবিরের নানার বাড়ি। পাশের গ্রামে। বেড়াতে। ঐদিন বিকেলেই তারা সবাই আসে বাড়িতে। বাড়িতে এসেই কবির দ্রুত যায় তার মাছ দেখতে। ঐখানে গিয়েই তার মাথায় বাজ পড়ে। একি! এখানকার পানি সেঁচে ফেলেছে কে! আর আমার মাছদুটোই বা গেলো কোথায়! এই বলে সে জোরে জোরে কাঁদতে থাকে। তার কান্নার আওয়াজ শুনে কবিরের বাবা-মাও এসে হাজির হয় সেখানে। মাছ না দেখে তাদেরও মন খারাপ হয়ে যায়। এরপর সবাই মিলে বের হয় ঐ মাছের খোঁজে। অবশেষে তারা তা খুঁজে পায় মতিনের বাড়িতে। তবে তা জীবিত না টুকরো টুকরো করে কাটা। মাছগুলো দেখে কবির হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে। তার কান্না দেখে কেঁদে ফেলে তার মা। বাবাও। এখনো মতিন সেই মাছগুলোর কথা মনে হলেই কেঁদে ফেলে।

এ জাতীয় আরও খবর

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দিনাজপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরকুট’

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন অনুকরণীয় ব্যক্তির সাক্ষাৎ

আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

উত্তরায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, কারণ শর্ট সার্কিটের সন্দেহ

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ডুবল সিঙ্গাপুরের জাহাজ

ইউক্রেনে স্টারলিংক সীমিত, ড্রোন প্রতিরোধে সংকট

মেসির অ্যাসিস্টে জয়, প্লে-অফে ইন্টার মায়ামি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর