,

ধনী ও গরীবের ইফতার

news-image

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গরীবের আবার ভালো ইফতার, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে তিন বেলা পেটে ভাতে খাওয়াই কষ্টকর! ভালো ইফতারি কেনার সাধ্য কি গরীবের আছে। ফুটপাত থেকে যা কিনতে পারি, তাতেই আনন্দ।’ সামান্য মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু আর পানিই এক মাত্র ভরসা। ইফতারকে নিয়ে এর রিকশাচালক জানালেন এমন সহজ সরল স্বীকারোক্তি।
শনিবার শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেশ কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কষ্ট হলেও ১০ থেকে ২০ টাকা ব্যয় করেন ইফতার কিনতে। তবে যেদিন আয় ভালো হয়, সেদিন ইফতারে আইটেমের সংখ্যাও বেড়ে যায়। অবশ্য সেটা সবসময় সম্ভব নয়। কারণ রোজ রোজ  যদি ভালো আইটেম দিয়ে ইফতার করা হয় তবে পেট চলবে কিভাবে ? এ এক কঠিন প্রশ্ন তাদের জীবনযাত্রায়।
বিশ্বব্যাপী কোন জাতীয় বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আসলে কেনাকাটার  ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সুবিধার জন্য মূল্য হ্রাস ঘোষণা করা হয়। এতে ক্রেতা এবং ব্যবসায়ী উভয়েরই লাভ হয়। ক্রেতারা কম দরে পণ্য ক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি কম দর হলে বেশি বিক্রি হবে ফলে কম লাভ করে বেশি বিক্রি করবে। দাম কম হলেও বেশি বিক্রি করে তা পুষিয়ে নেয়। এটাই বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ীদের নীতি।
কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করে কবে রমযান বা ঈদ আসবে। তখন বেশি দামে বিক্রি করে এক মাসে এক বছরের ব্যবসা করে নেবে। সারা বছর এ জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে ব্যবসায়ীরা। রমযান আসার আগেই মাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে। ঈদ বা যে কোন পার্বনে যেসব পণ্য বেশি বিক্রি হবে ঐ সব পণ্য গোপনে মজুদ করে ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীরা “োর ব্যবসা করে নেয়। এটাই বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র।
ইফতার সামগ্রি কেনার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। তাদের ভরসা ফুটপাতের ইফতারের দোকানগুলো। বেশির ভাগ সময় মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু দিয়েই ইফতার করেন তারা। শরবত বা খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকের আবার ইফতারি কেনার সামর্থ্য না থাকায় ভিড় জমান মসজিদে বা বড় বড় হাউস গুলোতে।
শহরের দোকানগুলোতে দেখা গেল, ইফতার সামগ্রীর মূল্য গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে ইফতারের বাজারেও এটা অস্বীকারের কিছু নেই। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করে যাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় বা হচ্ছে তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইফতার সামগ্রী কেনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফুটপাতের ইফতারের দোকান থেকে ১০-১৫ টাকার ইফতার কিনেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
গত শুক্রবার মাগরিবের আযানের কয়েক  মিনিট আগে মগবাজার রেললাইনের পাশে দেখা গেল ৫/৯ জন রিকশাচালক একত্রিত হয়ে বসেছেন। কাছে যেতেই চোখে পড়ল  তারা মুড়ির সঙ্গে ছোলা ও পিয়াজু মেশাচ্ছেন। কিন্তু মুড়ির মধ্যে ছোলা বা পিয়াজু খুঁজে পাওয়াই বড় কষ্টকর। ভাই কি দিয়ে ইফতার করছেন জিজ্ঞেস করতেই শহিদুল জানালেন, দেখতেই পারছেন  তো মুড়ি, ছোলা ও পিঁয়াজু দিয়ে।
৮২ টাকা ব্যয় হয়েছে এগুলো কিনতে। বেগুনি বা আলুর চপ কিনতে গেলে আরো বেশি টাকার দরকার হতো। কোথায় পাবো এত টাকা? রোযা রেখে বেশি পরিশ্রম করাও তো  যায় না ভাই। যতটুকু আয় করি তা থেকে কিছু ইফতার কিনতে ব্যয় করি।
তারা আরো বলেন, সামনে ঈদ। বাবা,মা,স্ত্রী- সন্তানদের জন্য তো কিছু নতুন কাপড়-চোপড় কিনতে হবে। মুখরোচক খাবার দিয়ে ইফতার করলে ঈদ করবো কিভাবে ভাই।
এদিকে বাজারে জিনিসপত্রের চড়া দাম। সব কিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বলা যায় বাজারে আগুন। এই আগুনে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। বিশেষ করে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস।
রোজা ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলের জন্যই ফরয। রোজা তার ইচ্ছার ব্যাপার আর ইফতার সাধ্যের ব্যাপার। অর্থাৎ গরীরের জন্য রোজা ইফতার নয়। এটা তার সাধ্যের বাইরে। রোজা আর ইফতারের মধ্যে যেন একটা বিভেদ তৈরি হয়ে গেছে। রোজা গরীবের জন্য আর ইফতার ধনীদের।

এ জাতীয় আরও খবর

আলমনগরে মেধাবীদের বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, উন্নয়নে অগ্রাধিকারের আশ্বাস এমপি আব্দুল মান্নানের

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

পূজার আয়োজনে ঘরেই বানান নারিকেলের নাড়ু

লোকসান ও বিদ্যুৎ বিলের চাপে বন্ধ হচ্ছে উল্কা সিনেমা হল

সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার কথা বলল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: রিজভী

মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিনের ছুটি, ছুটিতে থাকবেন না যারা

ঢাকায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার আভাস

ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

সেঞ্চুরির পর ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রশংসায় আগা সালমান

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সে সহিংসতা, অপরাধীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি ম্যাক্রনের