,

খালেদা গ্রপ্তার এড়াতে চাইছেন

news-image

ডেস্ক রির্পোট : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন আর গ্রেপ্তার হতে চাইছেন না। আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি মনে করেছিলেন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। তিনি আন্দোলন আরো জোরালো করার জন্য মনে করেছিলেন গ্রেপ্তার হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। সেই ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে নেতাদের দিক নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ধরে নিয়েছিলেন দলের চেয়ারপারসন গ্রেপ্তার হতে পানে। সেটা হলে কিভাবে আন্দোলন চলবে, আন্দোলনে কাঙ্খিত সাফল্য আসবে, সেটাও তাদের পরিকল্পনায় ছিল। কিন্তু এখন বিএনপি চেয়ারপারসন কোন মামলায় আর গ্রেপ্তার হতে চাইছে না। তিনি মনে করছেন, এই সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হলে এর কোন সুফল আসবে না। তাকে আদালত জামিন না দিলে কারাগারেই থাকতে হবে। দলের সাংগঠনিক ভীত সুদৃঢ় করার জন্য যে পরিকল্পনা নিয়েছেন সেটাও সফল হবে না। তার অবর্তমানে এখন এমন কোন নেতা নেই যিনি আন্দোলন চালিয়ে নিবেন। তার বিবেচনায় তারেক রহমান দেশে থাকলে সরকার দলের চেয়ারপারসন গ্রেপ্তার হলেও দলের হাল ধরে রাখা, নেতা কর্মীদের আগামী দিনে আন্দোলনের জন্য তৈরি করা সব মিলিয়ে একটা সফলতা আসতো। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই।
বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনে বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন চলাকালে গ্রেপ্তার হলে এক রকম হতো। কিন্তু এখন দল আন্দোলনের বাইরে আসায় ও নতুন করে শিগগিরই আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন না করতে পারার কারণে দলের অনেক বড় ক্ষতি হবে। সরকার বিনা বাধায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময় অতিবাহিত করতে চাচ্ছে। এরপর নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে আরো এক মেয়াদে সরকার গঠন করবেন। বিএনপি তখন আবারও ক্ষমতার বাইরেই থাকবে। এতে দলের নেতা কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। সেটা হলে দলের অনেক বড় ক্ষতি হবে। দেশের গণতন্ত্র পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ট এক নেতা বলেন, আন্দোলন চলাকালে সরকার ম্যাডামকে কৌশলগত কারণে গ্রেপ্তার করেনি। পরোয়ানা থাকার পরও সেটা আদালত থেকে গুলশান থানায় পাঠায়নি। সরকার মনে করেছিল ওই সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সেই অবস্থানে এখন সরকার নেই। এখন আমরা আন্দোলনে না থাকার কারণে সরকারের সুবিধা বেশি। ম্যাডামকে গ্রেপ্তার করলে নেতা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিবে। তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে। আর ওই অবস্থায় নতুন করে তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে না পারলে সমস্যা তৈরি হয়ে যাবে।
সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে হাজিরা না দিয়ে বার বার সময়ের আবেদন করেন। তার সময় আদালত মঞ্জুর করেছে। আর এই ভাবে তিনি দিনের পর দিন আদালতে অনপুস্থিত থেকেছেন। আদালতের প্রতি সম্মান না দেখানো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি আদালতে অনুপস্থিত থাকলে মামলার বিচার কাজ শেষ হবে না মনে করেই তিনি কালক্ষেপণ করছেন। এটা ঠিক করছেন না।
এদিকে আদালতের বাধ্যবাধকতা থাকায়, তার বিরুদ্ধে দুই দুর্নীতির মামলায় ২৫ মে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তার আইনজীবী এর আগের তারিখে সময়ের আবেদন করে তার অনপুস্থিতিতে মামলার শুনানি না করার আবেদন করেন। আদালত সময় মঞ্জুর না করে তাকে আগামী ২৫ মে আদালতে অবশ্যই হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। সেই হিসাবে তাকে ওই দিন আদালতে হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি হাজির না হলে আদালত তার ব্যাপারে কঠোর আদেশ দিতে পারেন। জামিনও বাতিল করতে পারেন, সেই সুযোগ রয়েছে বলে জানান দুদকের আইনজীবী। সূত্র জানায়, আদালত তাকে অনেক বার সময় দিয়েছে। এতে মামলার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর এই জন্য আমরা আদালতের কাছে আবেদন জানাবো যাতে করে তার জামিন বাতিল করা হয়।
আগামী ২৫ মে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হবেন কিনা নাকি এবারও তার নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত দেখিয়ে আদালতে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত থেকে সময়ের আবেদন করবেন কিনা জানতে চাইলে তার আয়কর আইনজীবী ও উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, দুই দুর্নীতির মামলার অভিযোগের সত্যতা নেই। আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। দুদক চাইছে দ্রুত মামলার কাজ শেষ করত। কিন্তু তাদের এত তাড়াহুড়া করা ঠিক না। তাছাড়াও ওই দুটি অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। কিন্তু ওই দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। তাহলেও গ্রেপ্তার করেনি। পরে তিনি জামিন নিয়েছেন। তবে তিনি আদালতে বার বার যেতে পারছেন না কারণ তারা নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারের কারণেই তিনি আদালতে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, সরকার ও পুলিশ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তিনি আদালতে যেতে পারেন। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময়ে কাওরান বাজার,বাংলাটমটর, ফকিরাপুল ও উত্তরাতে তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তার গাড়ির উপর হামলা করে সরকারি দলের নেতা কর্মীরা। এরপরও সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তার পুলিশ প্রত্যাহার করে নিয়ে তাকে আরো হুমকির মুখে ফেলেছে। এই অবস্থায় তিনি আদালতে যেতে নিরাপদ বোধ করছেন না।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তিনি নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এর আগেও বার বার মামলায় অনপুস্থিত থেকেছেন। আমরা মনে করি তার দুর্নীতির অভিযোগের বিচার দ্রুত শেষ হোক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তিনি আগামী দিনে হাজির না হলে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাবো।
এদিকে সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন মনে করছেন তাকে দুর্নীতির মামলায় প্রথমেই গ্রেপ্তার না দেখালেও যাত্রাবাড়িতে গাড়ি পোড়ানো ও মানুষ হত্যার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ওই মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আগামী ২৮ মে ওই দুই মামলার চার্জ গঠন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ডিবি পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত করে দুই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ও ৩৮ জন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় ওই মামলার চার্জ গঠনের দিনে খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামিরা আদালতে হাজির না হলে তাদের অনপুস্থিতিতেই চার্জ গঠিত হবে। ওই মামলার বিচার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন আদালত। আর সেটা বিবেচনা করেই খালেদা জিয়া মনে করছেন, সরকার ইচ্ছে করলেই ওই মামলাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
এই ব্যাপারে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলার কাজ চলছে। বিচার কাজ তিনি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। এই জন্য তিনি নানা রকম কৌশল করছেন কিন্তু লাভ হবে না। বিচার করা হবে। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমি কি বলবো। আদালত স্বাধীন। আদালত তার মতো করে ব্যবস্থা নিবে। তবে তিনি যতই সময় নষ্ট করেন না কেন এক সময়ে তাকে এটা শেষ করতেই হবে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান অভিযোগ করেন, যাত্রাবাড়িতে গাড়িতে পেট্রোল বোমা মারা ও ওই ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন ও অন্যান্য যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা জড়িত নন। কারণ এটা একটা সাজানো নাটক। সরকারী দলের লোকেরা সব ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির উপর দোষারোপ করছে। এখন মিথ্যে অভিযোগে বিচার করতে চাইছে। এই জন্য তারা মিথ্যে সাক্ষীও সাজাবে। তাদেরকে দিয়ে বক্তব্য দেওয়ানো হবে। অভিযোগ প্রমাণ করানোর চেষ্টা হতে পারে। এই কারণে ম্যাডাম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মামলাগুলো আইনীভাবে মোকাবিলা করার। আগামী তারিখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে তিনি সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। তবে তার ইচ্ছে আছে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার।
তিনি হত্যা মামলার আসামী সেই ক্ষেত্রে তার জামিন লাভের সুযোগ কত খানি, তিনি বলেন, জামিন লাভ করার পুরোপুরি অধিকার ও সুযোগ রয়েছে। কারণ তিনিতো দেশেই আছেন। পালিয়ে যাচ্ছেন না। তাকে জামিন দিতে বাধা নেই। কিন্তু সরকার না চাইলে জামিন নাও হতে পারে। গ্রেপ্তারও করতে পারে। আর এই কারণে সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ এই মামলায় তিনি কোনভাবেই পলাতক নন তারপরও পুলিশ তাকে পলাতক দেখিয়েছেন। এটা পুলিশের দায়িত্বে অবহলো। তার মতো একজন মানুষকে মামলায় চার্জশিট দাখিল করার সময়ে পলাতক দেখানোর মানে হচ্ছে সরকার তাকে গ্রেপ্তার করতে চায়নি বলেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। কিন্তু সেটা না করে মিথ্যে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আর এখন পুলিশ নিজের ফাঁদেই নিজে পড়েছে। তারা আদালতের কাছে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা চাওয়ায় ওই ব্যাপারে আদালত গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত না দিলে সেটা তারা করতে পারবে না।
এই ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মান্নান খান বলেন, খালেদ জিয়াকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ঠিকই কিন্তু এখানে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। কারণ খালেদা জিয়া তার অফিস ও বাসার বাইরে কোথাও থাকছেন না। পুলিশ চাইলেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতেন। সেটা না করে তাকে পলাতক দেখিয়েছেন। এটা ঠিক করেননি। আর এটা করার কারণে পুলিশের চার্জশিট দাখিল করা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ না দিলে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তিনি বলেন, ওই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়না চাওয়ার বিষয়টি একটি গদ বাধা নিয়ম। সেই হিসাবে চেয়েছে। এখন নির্ভর করছে আদালত কি সিদ্ধান্ত নিবে।
খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার যে কোন সময়ে খালেদাকে গ্রেপ্তার করতে পারে এই আতঙ্ক তৈরি করার জন্য এটা কৌশল হতে পারে। তবে সরকার যে কৌলই করুক না ম্যাডাম এখন গ্রেপ্তার হতে চান না। তিনি নতুন করে আন্দোলনের জন্য তৈরি হতে চান। সেটা করে শীত মৌসুমে আবারও মাঠে নামতে পারেন। সরকার সেই সুযোগও দিতে চাইবে না। সরকার কি করে সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা