বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতিই এখন আমাদের সব চেয়ে বর লজ্জা

1422504852ডেস্ক রির্পোট : আমাদের রাজনীতিই এখন জাতির সবচেয়ে বড় লজ্জায় রূপ নিয়েছে। সেটা কিভাবে তা আমাদের অতি বিপ্লবী রাজনীতিবিদদের কখনোই বোঝানো সম্ভব নয়। যদি একবার বোঝানোই যেতো, তাহলে এটা আর জাতীয় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারতো না। কুমিল্লায় ভোররাতে গুপ্তঘাতকের মতো যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসের ভেতর পুড়ে কয়লা হয়েছেন সাতজন। আহত ও দগ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ২৮ জন। কি দোষ ছিল মানুষগুলোর? বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁরা কি তাঁদের বাসায় দৈনিক তিনবেলা খাবার পাঠাতেন? তাঁদের প্রত্যেককে মাসে এক সেট করে জামা সরবরাহ করতেন? চিকিৎসার খরচ জোগাতেন? হাত খরচের জন্য প্রতিদিন টাকা দিতেন? তাহলে, কেন তাঁদের ইহজগতের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ জীবনটাই দিয়ে দিতে হলো? এর দায় কে নেবে?

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে কেউ কোনোকিছুর দায় স্বীকার করতে চায় না। চোর চুরি করে সাক্ষাৎ ধরা পড়লেও অকপটে বলে বসে, সে চুরি করেনি। প্রকাশ্যে একের পর এক ব্যক্তি গুম হয়ে গেলেও কেউ গুম হওয়া ব্যক্তির মুক্তিপণটুকুও চাইতে আসে না। প্রতিবছর নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে নৌ-মন্ত্রীদের কোনো দায়বোধ জাগে না। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড অবিরাম ঘটেই চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে যিনিই আসুন না কেন, এ জন্য তাঁরও কোনো দায়বোধ জাগে না। রাস্তায় অহরহ মানুষ মরছে। তাতেও কারো যেন কিছু করার নেই। বাংলার জনতা আমৃত্যু দায়মুক্ত। এটাও প্রকাশ্য দিবালোকের মতোই স্পষ্ট যে, কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তদের ছুড়া পেট্রলবোমায় সাতজনের বদলে সাত হাজার মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেও; কাজটার জন্য কারো দায়বোধ জাগত না। এখন সাতজন তো কোন ছাড়!

টিভি পর্দায় প্রতিদিন অতিবক্তা বঙ্গিয় রাজনীতিবিদদের কথা শুনলে মনে হয়, তাঁদের কাছে ‘গণতন্ত্র’ নামক মহান শব্দটির তুল্য আর কিছু নাই। কিন্তু তাঁদের কর্মকান্ড দেখলে মনে হয়, ‘গণতন্ত্র’ শব্দটিকে ঠিকভাবে বোঝার মতো যোগ্যতা তাঁদের এখনো হয়নি। রাজনীতিবিদ’রা আসলে গণতন্ত্র বলতে কি বোঝাতে চান? এর মানে কি শুধুই ক্ষমতার হালুয়া-রুটি ধরে কামড়াকামড়ি করা? আর প্রয়োজনে জাতির আত্মমর্যাদাবোধটুকুকেও একেবারে ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়া? গণতন্ত্রের সোনার হরিণের পেছনে দৌঁড়ানোর কথা বলে তাঁরা আসলে বাঙালিকে কোথায় নিয়ে যেতে চান? বঙ্গিয় রাজনীতির ধারক ও বাহক দুই দলের কাছেই রাষ্ট্রক্ষমতা এমন এক জিনিস, যা শুধু তাঁদের কাছেই শোভা পায়। গণতন্ত্র এমন এক জিনিস যা শুধু তাঁদের মধ্যেই নিরাপদ বোধ করে। এ জন্য রাষ্ট্রের মূল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্টানগুলোকে গণতান্ত্রিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ‘বিএনপি’র নেতৃত্বে বিশ দলীয় জোট দেশজুড়ে লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়ে মানুষ মারছে। বার্ষিক শিক্ষাসূচী পাল্টে দিতে বাধ্য করছে। এর কোনোটাই রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বা পুলিশ প্রসাশন বা নির্বাচন কমিশিন বা দুদককে সংস্কারের মতো দাবী নিয়ে নয়। তাঁদের দাবী যেততেন একটা নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া। নইলে যেমন নির্বাচনই হোক, অবশ্যই সেটা তাঁদের দৃষ্টিতে চিরকালের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং ধরেই নেওয়া যায় যে, বিএনপির আন্দোলনের মূল লক্ষ্য একটাই। সেটা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্টা বা জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া নয়। বরং যেভাবেই হোক ক্ষমতার রুটিতে শক্তদাঁতে কামড় বসানো। এতে জনকল্যাণের ছিটেফোটাও থাকা আবশ্যক নয়।

আবার একটি সচেতন বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে যে জনকল্যাণমূলক দাবীগুলো প্রতিষ্টা করার চেষ্টা করতে পারে; ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ তথা চৌদ্দদল এখন চাইলেই তা পারে। যদি সত্যিকার অর্থেই তাঁদের রাজনীতি হতো জনকল্যাণমূলক, তাহলে সবার আগে তাঁরা নিজেরাই বিচার বিভাগ, দুদক, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রসাশন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা হ্রাসের মতো সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিত। বাংলাদেশে যদি সেটা হতো তাহলে একটা নির্বাচন নিয়ে এতে জল ঘোলা করার প্রয়োজনই হতো না। হতো না নির্লজ্জের মতো বিদেশী শক্তিগুলোর হাতে পায়ে ধরার নাটক। করতে হতো না প্রভূভক্ত কুকুরের অভিনয়।

গতকালও বাংলাদেশে ঢুকে এক খেতমজুরকে হত্যা করে অসম্মাজনকভাবে টেনে নিয়ে গেছে বিএসএফ। সেটা যে এবারই প্রথম এমন নয়। কিন্তু জাতি নাকি এটা নিয়ে চিন্তিত নয়! কেন? কেন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত জীবনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি হয়ে থাকবে? আমাদের বিজিবি এ পর্যন্ত কতজন ভারতীয়কে হত্যা করেছে? আমাদের রাজনীতিবিদ’রা কি মেনে নিয়েছেন, বাঙালিরা জাতি হিসেবে চোর-বাটপার; আর তাঁরা এই চোর-বাটপারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন? তা না হলে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? তা না হলে এটাই কি একটি জাতির আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয়? আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে পাশের দেশ নিয়মিত কৌতুক করবে; আর আমরা বিকলাঙ্গের মত চেয়ে চেয়ে সব সহ্য করে যাব?

যদি তাই হয় নিয়তি? যদি কেবল রাজনীতির জন্য আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ বিসর্জন দিয়ে দিতে হয়, তাহলে আমাদের অতিবক্তা রাজনীতিবিদ’দের এখনই বুকে ব্যর্থতার স্টিকার লাগানো উচিত। এটাই তাঁদের যথার্থ পরিচয়বাহক। কারণ রাজনীতিবিদের ভূমিকায় নেমে তাঁরা তো আমাদের পথে কাঁটা বিছানো ছাড়া কোনো কাজে আসছেন না।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা