,

দুনিয়ার বিচিত্র সব কাজের আইন

ছোট্ট সোনামণিটা মায়ের পাশে ঘুরে ঘুরে মাকে কাজে সাহায্য করছে। এমনটা শুধু মা বলেছেন বলেই নয় কিন্তু! তা করার জন্য রীতিমতো আইনি বাধ্যবাধকতাআছে বলেই শিশুরা সহায়তা করতে বাধ্য। কিংবা আরেকটি আইনের কথাই ধরা যাক; সেখানে চাকরি টিকিয়ে রাখতে হলে ফিতা দিয়ে মেপে ঠিক রাখতে হবে কোমরের মাপ! দুনিয়ার এক প্রান্তে যখন ঘরের কাজে বা কর্মক্ষেত্রের জন্য এমন সব আইন হচ্ছে অথচ অন্যদিকে তখনও বাস্তবতা হচ্ছে কর্মীদের মধ্যাহ্ন বিরতি দিতেও নিয়োগদাতারা বাধ্য নন! দেশে দেশে এমন কিছু বিচিত্র কাজের আইন নিয়েই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

শুধু মা বলছেন বলে নয়আইনেও আছে!

ঘরের কাজে সাহায্য করতে এবং মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করতে শিশুদের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে! এটা হয়তো স্পেনেই সম্ভব। খুব বেশি বাড়াবাড়ি মনে হলেও এমনই একটা আইনের খসড়া গত মাসে স্পেনের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। এ খবরে দেশটির অনেক অভিভাবকই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। শেষপর্যন্ত হয়ত জনমতের চাপের মুখে এ আইন পাস নাও হতে পারে। তবু এ আইনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এতে ছেলে বা মেয়ে শিশু উভয়কেই ঘরের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে বলা হয়েছে। স্পেনে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে এমন অনেক আইন আছে। একটা আইন করেই দেশটির সব স্বামীদের ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করা এবং সন্তান লালন-পালনে সময় দেওয়ার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো স্বামী তা না করলে স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সাজা প্রদান করতে পারে আদালত।

জাপানের বয়স্ক কর্মীবাহিনীকে কর্মক্ষম রাখতে ২০০৮ সালে আইন করে ৪০ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের কোমরের মাপ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। ছবি: বিবিসিফিতা দিয়েই মাপা হবে কর্মীর স্বাস্থ্য!

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম থাকায় জাপানের কর্মশক্তির একটা বড় অংশই বয়স্ক জনগোষ্ঠী। ফলে তাদের স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখাটা খুবই প্রয়োজনীয়। বয়স্ক এই কর্মীবাহিনীকে কর্মক্ষম রাখার অভিপ্রায়ে ২০০৮ সালে আইন করে ৪০ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের কোমরের মাপ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী সব কর্মীকেই কর্মস্থলের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সেখানে রক্তচাপ, হূদরোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি কর্মীদের কোমরের মাপও নেওয়া হবে। জাপানে ‘ওবেসিটি’ বা মুটিয়ে যাওয়াকে স্থানীয়ভাবে ‘মেটাবো’ বলা হয়। এটা ‘মেটাবোলিক সিনড্রোমে’র সংক্ষিপ্ত রূপ। কোনো দপ্তর বা কারখানা যদি ২০১৫ সালের মধ্যে তাদের ‘মেটাবো’ কর্মীর সংখ্যা ২৫ ভাগ কমাতে না পারে, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানাও নির্ধারিত। দেশের বয়স্ক স্বাস্থ্যসেবায় সাধারণের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ দিতে হবে ওই প্রতিষ্ঠানকে।

জার্মানিতে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ছাড়া কোনো দপ্তর বা কারাখানার ব্যবস্থাপকেরা ‘নির্ধারিত সময়ের’ পর কোনো কর্মীকে ডাকতে পারবেন না বা কোনো কাজ করে দেওয়ার জন্য বলতে পারবেন না। ছবি: বিবিসিকাজ হবে নয়টাপাঁচটাএরপর নয়!

জার্মানি বরাবরই কর্মক্ষেত্রে নানা নৈতিকতা চর্চার কারণে প্রশংসিত। এ বছর মার্চ মাসের শেষদিকে জার্মানির শ্রম মন্ত্রণালয় নির্ধারিত কর্ম-ঘণ্টার পর কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জরুরি অবস্থা’ ছাড়া কোনো দপ্তর বা কারাখানার ব্যবস্থাপকেরা ‘অফিস আওয়ারের’ পর কোনো কর্মীকে ডাকতে পারবেন না বা কোনো কাজ করে দেওয়ার জন্য বলতে পারবেন না। দেশটির গাড়ি নির্মাণশিল্পের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ফক্সভাগেন’ ২০১১ সালের এমন একটি আইন চালু করে। অবশ্য তাতে কেবল ‘ট্রেড ইউনিয়ন চুক্তির’ আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য ওই আইনটি বলবত্ করা হয়। আর শ্রম মন্ত্রণালয়ের এই আইনটিও দেশের সব ধরনের শ্রমে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য এখনো প্রযোজ্য নয়।

ফ্রান্সে সন্ধ্যা ছয়টার পর ছুটির ঘণ্টার খবরে দুনিয়াজোড়া কর্মীবাহিনীর চাওয়ার ব্যাপক প্রতিফলন ঘটলেও ফরাসিদের বাস্তবতাটা নাকি বাস্তবে অতটা ঈর্ষণীয় নয়! ছবি: বিবিসিফরাসি ছুটির ঘণ্টার খবর!

গত মাসে যখন খবর বেরোল যে ফরাসিরা সন্ধ্যা ছয়টার পর কর্মীদের কাছে ফোন এমনকি ই-মেইল করাও আইন করে নিষিদ্ধ হয়েছে তখন দুনিয়াজুড়েই ধন্য ধন্য রব পড়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যা ছয়টার পর এমন ছুটির ঘণ্টার খবরে দুনিয়াজোড়া কর্মীবাহিনীর চাওয়ার ব্যাপক প্রতিফলন ঘটলেও ফরাসিদের বাস্তবতাটা নাকি বাস্তবে ঠিক ততোটা ঈর্ষণীয় নয়! আসলে ফ্রান্সে এমন একটা আইন হয়েছে ঠিকই কিন্তু তা কেবল দেশটির কয়েকটি খাতের নির্দিষ্টসংখ্যক বিশেষ স্তরের কর্মীর জন্যই প্রযোজ্য। তবে, ‘সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টার বেশি কাজ নয়’ বলে ফরাসি শ্রম আইনের যে কথা শোনা যায় তা দুনিয়ার যেকোনো দেশের কর্মীদের জন্যই প্রাণের চাওয়া হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা কার্যত কর্মীদের চ-কফির বিরতি তো দূরে থাক এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতি দিতেও আইনগতভাবে বাধ্য নন। ছবি: বিবিসিবিরতি নেইনেই খাবারের সময়ও!

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা কার্যত কর্মীদের চ-কফির বিরতি তো দূরে থাক এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতি দিতেও আইনগতভাবে বাধ্য নন। সাধারণ ছুটি, বার্ষিক ছুটি এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থতার ক্ষেত্রে সবেতন ছুটি দিতেও বাধ্য নন বড় অংশের নিয়োগদাতারাই। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে সব কর্মীর জন্য বছরে এক মাসের ছুটির নিশ্চয়তা আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে নেই। মার্কিন মুল্লুকের বড় বড় কোম্পানি এবং উচ্চপর্যায়ের চাকরির ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক এবং কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে নানা সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকলেও দেশজুড়ে সাধারণ কাজকর্মে পুরোপুরিই বিপরীত চিত্র দেখা যাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে