,

৩২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ বাংলাদেশের

anamগত কদিন ধরে যা হয়েছে তাতে দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিল দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচেই সেসব ভুলিয়ে দিল মুশফিকুর রহিমের দল। একদিনের ক্রিকেটে দ্বিতীয় সেরা উদ্বোধনী জুটি হলো এদিন এনামুল হক ও ইমরুল কায়েসের ব্যাটে। হলো একটি শতক ও তিনটি অর্ধশতক। টাইগারদের কাছে এমন ম্যাচই দেখার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের মানুষ। দুর্দান্ত এক দলীয় অবদানে বাংলাদেশ তিন উইকেটে ৩২৬ রান করেছে। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর।

এদিন ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে করে ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন এনামুল হক। ১৯৯৯ সালে মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনের ১৭০ রানের সেরা উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডটি হুমকির মুখে পড়েছিল। ৫৫ বলে পাঁচ চার ও তিন ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন এনামুল। তাকে অনুসরণ করে ৬৩ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে ৫০ ছুঁয়ে ফেলেন ইমরুল।

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই বাঁহাতি। ৭৫ বলে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে ৫৯ রানে মোহাম্মদ তালহার বলে বিতর্কিতভাবে উমর আকমলের গ্লাভসবন্দি হন ইমরুল। তবে থেমে যাননি এনামুল। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটি তিনি পান ১৩১ বলে। ছয়টি চার ও চারটি ছয়ের মারে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পরের বলে আউট হন তিনি।

মুমিনুল হকের সঙ্গে তার জুটিটি ছিল ৫৪ রানের। এনামুল দলের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন দলীয় ২০৪ রানে। ৪০ ওভারে দলের সংগ্রহ ছিল দুই উইকেটে ২০৫ রান।

হাতে ছিল যথেষ্ট উইকেট, সময়ক্ষেপণ না করে শুরু থেকে পাকিস্তানি বোলারদের ‍উপর চড়াও হন মুমিনুল ও অধিনায়ক মুশফিক। মাত্র পাঁচ ওভার এক বলে এই জুটিতে ৪৫ রান গড়েন তারা। ইতোমধ্যে ৪৪ বলে ছয়টি ‍চারে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পান মুমিনুল। কিন্তু তাকে ৫১ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় সাঈদ আজমলের বলে।

এরপর মুশফিকের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং ঝড়। তাদের জুটিতে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশের এশীয় কাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের মাইলফলকে পৌঁছায় দল। সেবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩০০ করেছিল টাইগাররা।

৩২ বলে আট চারে ১৪তম ফিফটি পান মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে সাকিবকে নিয়ে তিনি ৩৪ বলে হার না মানা ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। ১৬ বলে সাকিব ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ ১০ ওভারেই আসে ১২১ রান।

১৯৯৯ সালে শাহরিয়ার হোসেন ও মেহরাব হোসেন ১৭০ রানের সেরা উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে এই মিরপুরের মাঠেই প্রথম উইকেট জুটিতে ৬৮ রানের সর্বাধিক জুটি ছিল স্বাগতিকদের। তামিম ইকবাল ও নাজিমউদ্দিন সেই জুটি গড়েন।  সেই রেকর্ড ভেঙে দেন এনামুল ও ইমরুল। আর এশিয়া কাপে যে কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি ১৬০ রানের, ডাম্বুলায় ভারতের বিপক্ষে।

তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এদিন ফিরে এসেছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে নাঈম ইসলামকে। বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এসেছে আরও চারটি। শামসুর রহমানের জায়গায় ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ এসেছেন চোটাক্রান্ত সোহাগ গাজীর পরিবর্তে। স্পিনার আরাফাত সানিকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে পেসার শফিউল ইসলামকে। আর রুবেল হোসেনকে বাইরে রেখে নেওয়া হয়েছে আল-আমিন হোসেনকে। 

আর পাকিস্তানে সারজীল খানের পরিবর্তে ফাওয়াদ আলম ও পেসার জুনাইদ খানের বদলে আব্দুর রেহমান জায়গা করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ দল: মুশফিকুর রহিম, আব্দুর রাজ্জাক, আল-আমিন হোসেন, এনামুল হক, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, নাসির হোসেন, শফিউল ইসলাম, সাকিব আল হাসান ও জিয়াউর রহমান।

পাকিস্তান: আহমেদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, সোহেব মাকসুদ, মিসবাহ উল হক, উমর আকমল, ফাওয়াদ আলম, শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ তালহা, উমর গুল, সাঈদ আজমল ও আব্দুর রেহমান। 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর