‘সুহৃদ সময়’ সেই জেসমিনের দায়িত্ব নিল

news-image

নিউজ ডেস্ক : দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে দীর্ঘদিন থেকে ভুগতে থাকা জেসমিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে করোনা প্রতিরোধে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গঠিত চিকিৎসা বিষয়ক কর্মসূচি ‘সুহৃদ সময়’।

এছাড়াও সোমবার জেসমিনের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় একমাসের খাদ্যসামগ্রী রাজধানীর মান্ডায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ সময় আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজীব ও সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ উপস্থিত ছিলেন।

তারেক মাহমুদ সজীব জানান, সংবাদ দেখে তারা অসহায় জেসমিনের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। এরপর ‘সুহৃদ সময়’ তার চিকিৎসার বিষয়ে এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

সিরাজুল ইসলাম আবেদ বলেন, আজ জেসমিনের বাড়িতে একমাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য আগামী রোববার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে রোববার জেসমিনকে নিয়ে ‘কেউ আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, আর কিছু লাগবে না’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও সমকালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেসমিনের আর্তনাদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।

সে সময় জেসমিন জানান, তার বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের বসুরহাট এলাকায়। বর্তমানে থাকেন মান্দায় হায়দার আলী স্কুলের পাশে। শুক্রবার থেকে একমাত্র মেয়ে ঘরে না খাওয়া। কোনো উপায় না পেয়ে শনিবার সকালে খাবারের সন্ধানে বের হয়েছিলেন তিনি। অনেক আকুতি-মিনতির পর একজন দয়া করে ৫ কেজি চাল দিয়েছেন তাকে। কিন্তু সেই চাল নিয়ে ঘরে ফেরার সাহস হচ্ছে না তার। কারণ আদরের মেয়েটি তরকারি ছাড়া শুধু ভাত খেতে চায় না। ২ দিন পর মেয়েটির সামনে তরকারি ছাড়া ভাত কিভাবে এগিয়ে দেবেন তিনি?

জেসমিন জানান, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সুখের জীবন ছিল। স্বামী ফয়সাল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করতেন। আর জেসমিন চাকরি করতেন ফকিরাপুল মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবন এলোমেলো করে দেয়।

৬ বছর আগে বাস থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান জেসমিন। এ সময় একটি সিএনজির ধাক্কায় তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায়। কিছুদিন পর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর আর কোনো খোঁজ নেননি স্ত্রী সন্তানের। অভিমানী জেসমিনও খোঁজ নেননি তার।

দুর্ঘটনার পর চিকিৎসায় জেসমিনের পা ভালো হলেও হাতের হাতের হাড় এখনও জোড়া লাগেনি। চিকিৎসকরা সাময়িকভাবে হাতে রড লাগিয়ে দেন। সেই হাত নিয়েই জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন জেসমিন। এর মাঝে ছেলেও বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেলেও জেসমিন ও তার মেয়ের জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু সেই সুখও টিকেনি জেসমিনের। আড়াই মাস আগে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন ভাঙা হাতটি অস্বাভাবিক ফুলে গেছে। মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে হাড়। কোনোভাবেই হাতটি নাড়াতে পারছেন না আর।

তিনি বলেন, এরপর আশাপাশের মানুষ আমাকে নিয়ে যায় পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক হাত কেটে ফেলার কথা বললে আমি ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা হাড় সঠিক স্থানে বসিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে জানান অপারেশন করলে ঠিক হবে। তারা গত ১৪ এপ্রিল অপারেশনের জন্য হাসপাতালে যেতে বলেন। কিন্তু এদিন হাসপাতালে গেলে করোনার কারণে চিকিৎসকরা আর তার ধারে-কাছেও যাননি।

জেসমিন বলেন, গত ২ মাস ধরে কোনো কাজ করতে পারি না। জামানো কিছু টাকাও ছিল তাও শেষ। শুক্রবার সারাদিন না খেয়ে থেকে শনিবার আর সহ্য করতে পারিনি। খাবারের খোঁজে বের হয়ে পড়ি। কিন্তু আমাকে খাবার সাহায্য দেওয়া লাগবে না। কেউ আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। হাত ভালো হলে আমি কাজ করেই খেতে পারবো।

এ জাতীয় আরও খবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছেলেটাই ভোগালেন বাংলাদেশকে

শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর

এই নারী আমার স্ত্রী নন : গোলাম মাওলা রনি

এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলি, সেনা সদস্য আহত : আইএসপিআর

নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ জনও জড়ো হবেন না: রাশেদ খাঁন

নিউইয়র্কে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ প্রাণহানি

ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের

তিনি শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন-সর্বমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী: নাহিদ ইসলাম

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ