বন্দুক যুদ্ধে নিহত পুত্রের লাশ গ্রহনে পিতার না

Sarail-pic-Gunfight-Footage-14.02.16-450x338সরাইল প্রতিনিধি : সরাইলে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ডাকাত রতনের লাশ ৩৩ ঘন্টা ছিল মর্গে। নিজ পুত্রের লাশ গ্রহনে পিতার না। কারন ক্ষোভ ও লজ্জা দুটিই। শেষ র্পন্ত বাবার বাড়ির কেউ তার লাশ আনতে যায়নি। ২৪ ঘন্টা অপেক্ষার পর পুলিশ বেওয়ারিশ হিসাবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে তার লাশ দাফন করার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল। অবশেষে গতকাল ২টার পর রতনের মৃতদেহ গ্রহন করেছে ময়না ও তাদের প্রতিবেশী মুশকত আলী (৬৫) নামের এক মুরব্বি। ওদিকে রতনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্ত্রী বাবা সহ গোটা পরিবার রয়েছে আতঙ্কে। অনেকে লজ্জায় ছটফট করছেন। গতকাল সোমবার সকালে চুন্টায় রতনের বাড়িতে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, স্বজনরা আসছেন। হ্যাঁ হুতাশ করছেন। একটি কক্ষে চিৎকার করে কাঁদছেন রতনের মা শাহেনা খাতুন (৪৪)। বিলাপ করছেন আর বুকে ছাপরাচ্ছেন। পাশের আরেকটি কক্ষে বসে চোখের জল মুছছেন পিতা গোলাপ মিয়া (৪৬)। প্রথমে লজ্জায় কথা বলতে চাননি। পরে বলেন, দেখুন আমার তিন ছেলের মধ্যে রতন দ্বিতীয়। বড় ছেলে আক্তার হোসেন (২৮) সৌদী প্রবাসী। আক্তার এক বছর আগে বিয়ে করেছে। ঘটনার খবর শুনেই আমি অন্যত্র চলে গিয়েছিলাম। আজ সকালে (সোমবার) আমি বাড়িতে এসেছি। এলাকার অনেকেই আমাকে ভয় দেখিয়েছেন। লজ্জায় আমি মরে গেছি। ৮-১০ বছর আগে কাউকে না জানিয়ে রতন একা গ্রামের উত্তর পাড়ায় বিয়ে করে ফেলে। এরপর থেকে আমি তাকে বাড়িতে আসতে দেয় না। তার সাথে আমার কোন ধরনের যোগাযোগ নেই। পাশেই তার শ্বশুড় বাড়ির জনৈক স্বজনের সাথে থাকত। কোথায় যায়? কি করে? আমি কিছুই জানি না। ছেলের উপর আমার ক্ষোভের বিষয়টি কেউ নিস্পত্তি করতে আসেনি। উল্টো রতনকে সাহস জুগিয়েছে। যা ইচ্ছা তা করতে তাকে বলে দিয়েছে স্থানীয় কিছু লোক। পুলিশ গত দুইদিন ধরে রতনের লাশ আনতে বলতেছে। গ্রামের অনেকেই আমাকে ভয় দেখিয়েছে। লজ্জা ও ভয় দুই কারনেই আমি ছেলের লাশ আনতে যায়নি। রতনের শ্বশুড়বাড়িতে কথা হয় তার স্ত্রী ময়না বেগমের (২৪)। এ সময় পাশেই খেলা করছিল রতনের শিশু পুত্র ফাহিম (০৫) ও কন্যা সুরাইয়া (০৪)। পিতা হারানোর বেদনা তাদেরকে এখনো তাড়া করেনি। বিধবা স্ত্রী ময়না জানায়, তার স্বামী রতন অনেক আগে কিছু খারাপ কাম কাজ করতো। তার বিরুদ্ধে সন্দেহ মূলক একটি মামলা ছিল। এখন মাধবপুরের একটি ইটভাটায় কাজ করে। সংসারের চাল ডাল এক সাথে দিয়ে গেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে বুধবার সন্ধ্যায় চলে গেছে। ঘটনার আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী রতনের সাথে ময়নার মুঠোফোনে শেষ কথা হয়। রতন ময়নাকে বলেছে, আমি এখন ইটভাটায় আছি। রোববার সকালে আমরা এই ঘটনা জানতে পারি। প্রসঙ্গতঃ গত রোববার ভোরে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের সরাইলের বড্ডা পাড়া এলাকায় গণপরিবহনে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বাঁধা দেওয়ায় পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে রতন (৩০) নামের এক ডাকাত নিহত হয়। টহল পুলিশের মাইক্রো বাস (ঢাকা-মেট্রো-ছ-১১-০৬৫৯) কূপিয়ে ভাংচুর করে ডাকাত দল। এ ঘটনায় সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

হালাল শিল্প, টেকসই বিনিয়োগ ও এফডিআই আকর্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ

বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতিকর: আইনমন্ত্রী

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রীর শোক

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ

আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করবে সরকার

ডেঙ্গুর ঝুঁকি কাটেনি ঢাকার দুই সিটির বহু ওয়ার্ডে

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিচার শুরু

হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ২৮২

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে, এক দিনে মৃত্যু ৩

পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল ১৫ বছর বয়সী ছাত্রদল নেতার

সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৮ জনের রোহিঙ্গা পরিচয়ের তথ্য

ঢাকায় বাসে আগুন-ককটেল বিস্ফোরণ, নাশকতার সন্দেহ ডিএমপির