দ্বিখণ্ডিত হতে যাচ্ছে হেফাজত

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : হেফাজতে ইসলামের আমির আহমেদ শফীর মৃত্যুর পর থেকেই বহুল আলোচিত-সমালোচিত ও বিতর্কিত ধর্মভিত্তিক এ সংগঠনের কর্তৃত্ব নিয়ে বহুমুখী দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। শফীপন্থিদের বাদ দিয়ে হেফাজতকে পুরোপুরি দখলে নেয়ার জন্য একাংশ তৎপরতা শুরু করে। তবে সবার দৃষ্টি ছিল সংগঠনটির কাউন্সিলের দিকে। তবে হাটহাজারী মাদ্রাসায় একাংশের কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।

জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির এবং নূর হোসেইন কাসেমীকে মহাসচিব মনোনীত করে ঘোষিত ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর অনুসারীরা। যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক এ সংগঠনটির দ্বিখণ্ডিত রূপ স্পষ্ট আকার নিল।

চলতি বছরের মাঝামাঝিতে শফীর ছেলে আনাস মাদানির সঙ্গে দ্বন্দ্বে মাদ্রাসার পদ হারালেও হেফাজতের মহাসচিবের পদে থেকে যান বাবুনগরী। তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আহমদ শফী। এমনকি তার ছেলে আনাস মাদানিকেও বরখাস্ত করা হয়। এরপরই বাবুনগরী আবার মাদ্রাসার পদে ফেরেন।

হাটহাজারী মাদ্রাসার কর্তৃত্ব হারানোর পরদিনই গেল ১৭ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর আমির নির্বাচন নিয়ে সংগঠনটির মধ্যে নানা আলোচনা গুঞ্জন শুরু হয়।

গেল শনিবার ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাহ আহমদ শফীর অনুসারী একটি অংশ। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রয়াত আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন। আর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ।

প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর অনুসারী মঈনুদ্দীন রুহী সদ্য ঘোষিত কমিটিকে অবৈধ হিসেবে দাবি করেন। তিনি কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই কাউন্সিলের যিনি আহ্বায়ক, সেই মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর হেফাজতে ইসলামে সদস্য পদও নেই। এরকম একজন ব্যক্তি কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করতে পারেন না।

শফীর অনুসারী মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, আমি ঢাকায় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছি। যেহেতু গঠনতান্ত্রিকভাবে কাউন্সিল বা সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই এর সবই অবৈধ। আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। সময়ই বলবে আমরা কী করব। সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাব। মঈনুদ্দীন রুহীর দাবি, রোববার হাটহাজারী মাদ্রাসায় হওয়া কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা ৬৫ জনই ছিলেন অনুপস্থিত।

হেফাজতে ইসলামের নতুন গঠিত কমিটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর হেফাজতের প্রধান উপদেষ্টা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাছ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং ঢাকা মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বলে পরিচয় দেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতেও কোনো আলোচনা করা হয়নি, এমনকি সম্মেলনের বিষয়টিও বলা হয়নি। চিঠিও দেয়া হয়নি। একইভাবে অনেক আলেম বাদ পড়ে গেছেন।

আমির মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাছ মনে করছেন এসব ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেফাজতে ইসলামের ব্যাপকতা, সর্বজনীনতা ক্ষুণ্ন করার জন্য বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা পদক্ষেপ। কারো ইঙ্গিতে এগুলো করা হয়েছে বলে দাবি করেন মুফতি ওয়াক্কাছ।

তবে হেফাজতের আমির নির্বাচিত হয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, তিনি ওই পদ গ্রহণ করতে চাননি। মুরুব্বিরা জোর করে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন দাবি করে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন