জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিচার শুরু
অনলাইন ডেস্ক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
রোববার ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
বিচারের মুখোমুখি হওয়া তিন আসামি হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শুনানির জন্য তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষে আইনজীবী আল মামুন রাসেল ও এম রাশেদুজ্জামান অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জহির হোসেন খান এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনি করাতে গিয়ে হত্যার শিকার হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রীর বাসার নিচতলায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। এতে বর্ষা, মাহির ও আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্ককে হত্যার পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন জোবায়েদ। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।
সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী মেসেঞ্জারে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জুনিয়র শিক্ষার্থী সৈকতকে তাঁর হত্যার খবর জানায়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ফোন করে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।
এরপর এনায়েত তাঁর শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তাঁরা। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পাশের সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।











