ইসরায়েলে সরকার গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জে আইজেনকট
অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তবে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও আইজেনকটের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
গত শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়া হবে। তাঁর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৬৭ জন সংসদ সদস্য। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। বাকি সাতজন কোনো পক্ষকে সমর্থন দেননি। রোববার প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আইজেনকটের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ করা ৬৭ জনের মধ্যে আরব দলগুলোর ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। ফলে পরিবর্তনপন্থী ইহুদি দলগুলোর নিজস্ব আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪৮টিতে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি এবং শাস পার্টির ছয়টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু শাস পার্টির নেতা আরিয়ে দেরি ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে দলটির সঙ্গে আইজেনকটের সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরেক সম্ভাব্য জোটসঙ্গী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যানও আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনে আপত্তি জানিয়েছেন। এমনকি আরব সংসদ সদস্যরা ভোটদানে বিরত থাকলেও তিনি এমন সরকারকে সমর্থন করবেন না বলে অবস্থান জানিয়েছেন।
তবে অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে লিবারম্যানের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীতে নিয়োগসংক্রান্ত আইন নিয়ে ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে সামরিক সেবায় অংশগ্রহণের নিয়ম নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতপার্থক্য রয়েছে। অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় চায়। বিপরীতে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি দল সামরিক ও জাতীয় সেবায় সবার জন্য সমান নিয়ম চালুর পক্ষে।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো সমঝোতার নিশ্চয়তা দেননি। তাঁর দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তাঁর নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এদিকে সরকার গঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে পরিবর্তনপন্থী দলগুলো। এর মধ্যে বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগ, ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন এবং নেতানিয়াহু সরকারের সময়ে পাস হওয়া কয়েকটি আইন বাতিলের বিষয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে ৬৭ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ ভোট নিশ্চিত করতে আইজেনকটকে জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে হবে। দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে তাঁর সরকার গঠনের উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।











