,

রিমান্ডে থাকা অবস্থায় যেসব তথ্য ফাঁস করলেন তৌহিদ আফ্রিদি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আলোচিত অপরাধ ও রহস্যময় ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির নাম। বসুন্ধরা গ্রুপকে ঘিরে বহুদিন ধরে চলা বিতর্কিত মুনিয়া মৃত্যুর মামলায় নতুন করে তার সম্পৃক্ততার নানা তথ্য সামনে আসছে। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদি যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, তা মামলার গতিপথ নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

বসুন্ধরা গ্রুপকে ঘিরে ষড়যন্ত্র
মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে ঘিরে নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে চাপের মুখে ফেলতে চেয়েছিল একটি চক্র। এমনকি ১০০ কোটি টাকা চাঁদার দাবির কথাও প্রকাশ্যে আসে। বসুন্ধরা গ্রুপ তখনই জানায়, তারা কোনো বেআইনি দাবি বা অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

তৌহিদ আফ্রিদির নাম আসার পেছনের ঘটনা
তৌহিদ আফ্রিদিকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করার পরই তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উন্মোচিত হতে থাকে। সিআইডির অভিযানে তার বাসা থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। এগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, আফ্রিদি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখই ছিলেন না; বরং তার সঙ্গে মুনিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যা শুরু হয় একটি অ্যাপসের মাধ্যমে। এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন জুয়া, ডেটিং এবং মাদকের লেনদেন হতো বলে তদন্তে জানা যায়।

ক্ষমতার আড়ালে ‘গুডবয়’ ইমেজ
ঢাকার আলোচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুডবয়’ ইমেজ তৈরি করলেও বাস্তবে তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মডেল ও তরুণীদের প্রভাবশালী মহলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, মাদক ও নারী সরবরাহসহ নানা অপরাধে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন।

মুনিয়া মামলা ও নতুন মোড়
২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সেদিনই তার বোন নুসরাত জাহান আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। প্রথম থেকেই মামলার তদন্ত ও দ্রুত আদালতের নির্দেশনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ ও পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন এবং বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর তৌহিদ আফ্রিদির নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অডিও ও চ্যাটের মাধ্যমে ইঙ্গিত মেলে, মুনিয়ার সঙ্গে তার জটিল সম্পর্ক ও চাপ সৃষ্টির বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থাকতে পারে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন অসংখ্য ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, তিনি নারী কেলেঙ্কারি, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতেন। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সহায়তায় তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে একে ভুক্তভোগীরা তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

উপসংহার
তৌহিদ আফ্রিদিকে ঘিরে যে নতুন তথ্যগুলো সামনে আসছে, তা শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে প্রভাবশালী মহলের ছায়ায় অপরাধ জগৎ বিকশিত হতে পারে। সিআইডির তদন্তে এখন নজর থাকবে, মুনিয়া মামলার প্রকৃত সত্য কতটা উদঘাটিত হয় এবং এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় কি না।

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড