শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কত

news-image

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ৩৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার আইএমএফের হিসাব মানলে নামবে ৩১ বিলিয়ন ডলারে

ডেস্ক রিপোর্ট : রপ্তানিতে জোরালো প্রবৃদ্ধির পরও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে বাজারে ডলারের সংকট চলছে। টাকার বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এ মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ক্রমে চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ নেমে গেছে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে। যদিও এটাকে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব বলতে নারাজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির হিসাবায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে দেশের রিজার্ভ কমবে আরও প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের মতো। এতে প্রকৃত রিজার্ভ নেমে আসবে ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বর্তমানে পণ্য আমদানির পেছনে বাংলাদেশের প্রতি মাসে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসেরও কম আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। তবে আইএমএফের পরামর্শ মেনে রিজার্ভের অর্থে গঠিত বিভিন্ন তহবিলের প্রায় ৮ বিলিয়নের ঋণ বাদ দিলে এ মুহূর্তে চার মাসের কম আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে বাংলাদেশের হাতে।

অর্থনিতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে, তা নিয়ে এ মুহূর্তে শঙ্কা নেই। তবে তা আরও কমে গেলে বড় ধরনের শঙ্কার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের রাশ টানা না গেলে রিজার্ভ আরও কমে যাবে। তখন বৈদেশিক ঋণ ও আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

করোনা মহামারীর মধ্যেও কয়েক বছর ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের ওপর ভর করে গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। কিন্তু এর পর থেকে টানা কমছে রিজার্ভ। সম্প্রতি রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। গত বুধবার দিনশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এটি পৌনে দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মাত্র সাড়ে ১০ মাসের ব্যবধানে রিজার্ভ কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এখন রিজার্ভের যে হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার মধ্যে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) ৭ বিলিয়নও আছে। এটা কোনোভাবেই রিজার্ভে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আমি মনে করি, রিজার্ভ থেকে ইডিএফ নাম দিয়ে দেশের প্রভাবশালী রপ্তানিকারকদের যে ঋণ দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে, তা অত্যন্ত খারাপ একটা সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে দেশ থেকে পুঁজি পাচারকে উৎসাহিত করা হয়েছে। কীভাবে অর্থপাচারকে উৎসাহিত করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ইডিএফ লোন ফেরত আসছে না, যা ফোর্সড লোনে পরিণত করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এর মানে ইডিএফ লোন বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বা যাচ্ছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত মজুদ ৩২ বিলিয়ন ডলার। এ মজুদ দিয়ে চার মাসের কিছু বেশি চলা যাবে। এর সঙ্গে সেবা খাতের দায় পরিশোধ, সরকারি-বেসরকারি ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধ যোগ করলে আমদানির জন্য আরও কম রিজার্ভ থাকবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত রিজার্ভের লেভেল ঠিক আছে। তবে আরও কমে গেলে শঙ্কা আছে। রিজার্ভ যাতে না কমে, সে জন্য আমদানির রাশ টানতেই হবে। এ জন্য আমদানি অর্থায়নের সুদহার ও মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করতে হবে। এ ছাড়া প্রবাসী আয় বাড়াতে আন্তঃব্যাংক ও খোলাবাজারের ডলারের রেটের পার্থক্য ২ টাকার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এটা করা গেলে হুন্ডিতে অর্থ প্রেরণ নিরুৎসাহিত হবে এবং বৈধ চ্যনেলে বেশি রেমিট্যান্স আসবে।

জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে আইএমএফের এক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। টানা প্রায় ১২ দিন সফরের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি ‘সেফগার্ড অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। সেখানে রিজার্ভ হিসাবায়নে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তারতম্য থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আইএমএফ মনে করে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ), লং টার্ম ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (এলটিএফএফ) এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ বিমানকে দেওয়া অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার দায়। বর্তমানে ইডিএফে ৭০০ কোটি, জিটিএফে ২০ কোটি, এলটিএফএফে ৩ কোটি ৮৫ লাখ এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৬৪ কোটি ডলার ও বাংলাদেশ বিমানকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই ৭৯২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের বাইরে কারেন্সি সোয়াপের আওতায় শ্রীলংকাকে দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি ডলার।

আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন (বিপিএম-৬) ম্যানুয়াল অনুযায়ী, এসব দায় রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে না। সংস্থাটির ভাষায় এগুলো নন লিকুইড সম্পদ বা ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড সিকিউরিটিজ। ফলে সেফগার্ড অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টের মাধ্যমে আইএমএফ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এ অসঙ্গতি নিরসনের সুপারিশ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংস্থাটিকে চিঠি দিয়ে প্রাথমিকভাবে রিজার্ভের হিসাবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত রীতি মেনে দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে রিজার্ভ বেশি দেখানোর সুযোগ নেই, যা আইএমএফকেও চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রিজার্ভের চাপ সামাল দিতে ফের আইএমএফ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা নিতে দেনদরবার শুরু করেছে সরকার। এ ঋণ পেতে হলেও আইএমএফের বেশ কিছু শর্ত মানতে হতে পারে বাংলাদেশকে, যার মধ্যে রিজার্ভ হিসাবায়নের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণের বাধ্যবাধ্যকতাও আরোপ করা হতে পারে। বাংলাদেশ এর আগেও আইএমএফ থেকে চারবার ঋণ নিয়েছে। প্রথমবার ঋণ নেয় ১৯৯০-৯১ সালে। এর পর ২০০৩-২০০৪, ২০১১-২০১২ এবং সর্বশেষ ২০২০-২০২১ সালে সংস্থাটি থেকে ঋণ নেয় বাংলাদেশ। তবে কোনোবারই ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়ায়নি। সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা