শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ ধরে রাখতে আরও পদক্ষেপ চান অর্থনীতিবিদরা

news-image

জিয়াদুল ইসলাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার পরও ক্রমশ কমে যাচ্ছে রিজার্ভ। গত সপ্তাহে রিজার্ভের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে। এ অবস্থায় রিজার্ভ ধরে রাখতে আরও পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলছেন, বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে, তা নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো শঙ্কা নেই। তবে তা আরও কমে গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের শঙ্কার কারণ হতে পারে। তাই রিজার্ভ ধরে রাখতে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে আরও রাশ টানতে হবে। প্রয়োজনে ঋণের সুদের হার বাড়াতে হবে। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে আন্তঃব্যাংকের সঙ্গে খোলাবাজারের ডলারের রেটের পার্থক্য কমিয়ে আনতে হবে, যাতে হুন্ডিতে অর্থ প্রেরণ নিরুৎসাহিত করা সম্ভব হয়। সেই সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।

অস্বাভাবিক আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে রপ্তানি আয়ে জোরালো প্রবৃদ্ধির পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের দুই মাসের ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলরেরর আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। গতকাল দিনশেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। এটি গত পৌনে দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। সেটি বাড়তে বাড়তে গত বছরের আগস্টে অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। ওই বছরের ২৪ আগস্ট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সাড়ে ১০ মাসেরও কম সময়ে রিজার্ভ কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বর্তমানে পণ্য আমদানির পেছনে বাংলাদেশের প্রতি মাসে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে এই রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসেরও কম আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর আমাদের সময়কে বলেন, আগামীতে আমদানির রাশ যদি টানা না যায়, তা হলে শঙ্কা তো আছেই। তাই আমাদের আমদানির রাশ টানতেই হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্য আমদানির নগদ মার্জিনের হার শতভাগ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর এলসি কেমন বাড়ছে সেটি থেকে বোঝা যাবে আমদানি কমছে কি কমছে না। এটা আগামী দুই মাস পর বোঝা যাবে। কারণ তখন আকুর আমদানি বিল পরিশোধ হবে। তিনি বলেন, শুধু নগদ মর্জিন বৃদ্ধিই নয়, প্রয়োজনে আমদানি নিরুৎসাহিতে সুদের হারও বাড়িয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া প্রবাসী আয় বাড়াতে আন্তঃব্যাংক ও খোলাবাজারের ডলারের রেটের পার্থক্য ২ টাকার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এটা করা গেলে হুন্ডিতে অর্থ প্রেরণ নিরুৎসাহিত হবে এবং বৈধ চ্যনেলে বেশি রেমিট্যান্স আসবে।

প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ খাতে কোনো প্রণোদনা দেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না। বর্তমানে যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সেটিও বন্ধ করা উচিত। যদি আন্তঃব্যাংকের সঙ্গে খোলাবাজারের পার্থক্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে করা যায় তা হলে এমনিতেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসবে। এর জন্য প্রণোদনা দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এর পরিবর্তে জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দিতে হবে।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে জমা হয়, যা দিয়ে দেশের আমদানি ব্যয় ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো হয়। এতে দেশের অর্থনীতি গতিশীল ও শক্তিশালী হয়। সূত্র বলছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর ফের আগের মতো হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজারে ডলারের দাম বেশি হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন তারা। বর্তমানে আন্তঃব্যাংকের সঙ্গে খোলাবাজারের ডলারের দামের পার্থক্য প্রায় ৫-৬ টাকা।

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তারপরও রেমিট্যান্স প্রবাহে চলছে নিম্নমুখী প্রবণতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। অথচ মহামারী করোনার মধ্যেই অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার। সূত্র বলছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় ফের আগের মতো হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। কারণ ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজারে ডলারের দাম বেশি মিলছে। এতে বৈধ পথে কমে যাচ্ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। গত অর্থবছরে দুটি ছাড়া প্রায় সব দেশ থেকেই কমেছে প্রবাসী আয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব থেকে।

সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণ আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা। তাই বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে, সেটি ধরে রাখতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমাতে হবে। সেই সঙ্গে রেমিট্যন্স বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ বাড়াতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিতে বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা