,

এবার রাস্তায় নামছেন ব্যাংকের ছাঁটাই কর্মীরা

news-image

জিয়াদুল ইসলাম
করোনাকালে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই ও পদত্যাগে বাধ্য করা কর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালনে গড়িমসি করছে ব্যাংকগুলো। এমনকি চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে না। তাই ছাঁটাই ও পদত্যাগে বাধ্য করা কর্মীরা দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে এবার রাস্তায় নামছেন। আগামীকাল বুধবার তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করবেন।

২০২০ সালের মার্চে করোনা শুরুর পর টানা ৬৬ দিন ছুটি ছিল দেশে। এ সময়ে প্রায় সব কিছু বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবার আওতায় ব্যাংকগুলো খোলা রাখা হয়। ব্যাংকাররা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস করেন। এর পরও খরচ কমানোর অজুহাতে ব্যাংক খাতে কর্মীদের চাকরিচ্যুত, ছাঁটাই ও পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে উঠে আসে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বেসরকারি ছয়টি ব্যাংকে তিন হাজার ৩১৩ কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’ দেখানো হয়েছে তিন হাজার ৭০ জনকে। এ ছাড়া ২০১ জনকে

অপসারণ, ৩০ জনকে বরখাস্ত ও ১২ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে ছাঁটাই কর্মীদের দ্রুত পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর ৯ মাস পার হলেও বেশিরভাগ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়নি বলে জানা গেছে।

২০২০ সালের মার্চে পদত্যাগে বাধ্য হন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের গুলশান শাখাপ্রধান ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব আলম। করোনাকালে তিনিসহ অনেক কর্মকর্তাকেই ব্যাংক অন্যায়ভাবে পদত্যাগে বাধ্য করেছে উল্লেখ করে মাহবুব আলম আমাদের সময়কে বলেন, অনেকটা জোরপূর্বক আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। অথচ ভালো পারফরম্যান্সের জন্য ব্যাংকের আগের ম্যানেজমেন্ট আমাকে প্রশংসাপত্রও দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, করোনার মধ্যে চাকরি যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর আশার আলো দেখতে পাই। কিন্তু সেই আশার আলোতেও এখন চিড় ধরেছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাও মানছে না ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া কাউকে ছাঁটাই বা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়ে থাকলে অবশ্যই তাদের চাকরি ফেরত দেওয়া উচিত। কোনো ব্যাংক এটি পরিপালন না করলে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা ভাইরাসের এই সময়ে শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ বা অদক্ষতার কারণ দেখিয়েও কাউকে ছাঁটাই করা যাবে না। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরও করোনার এই সময়ে যাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আবেদন সাপেক্ষে তাদের পুনর্বহাল করতে হবে। এর পর ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, মহামারীর সময় চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগ করা কর্মীদের পুনর্বহালের বিষয়ে যে সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, তা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেওয়া হয়। কোনো ব্যাংক যদি এ নির্দেশনা না মানে, তা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড