,

গান্ধীদের পিছু ছাড়ছে না যে ‘কেলেঙ্কারি’

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার অর্থ আত্মসাৎসংক্রান্ত মামলায় ভারতের আর্থিক দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সমন পেয়ে গতকাল সোমবার সংস্থাটির দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোনিয়া গান্ধীও একই মামলায় সমন পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকায় তার হাজিরের পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা ২৩ জুন। এই মামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ গোটা কংগ্রেস। রাজপথ থেকে শুরু করে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে দলটি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, নেতাদের সমনের প্রতিবাদে গতকাল দিল্লিতে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাসহ সমর্থকরা বিক্ষোভ করে। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতা অধির রঞ্জন চৌধুরী, কেসি ভেনুগোপাল ও অশোক ঘেহলোটও রয়েছেন। প্রসঙ্গত বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলাটি করেছেন। যদিও গান্ধী পরিবার সব সময় বলে এসেছে, এই অভিযোগ সত্য নয়।

ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকাটি ১৯৩৮ সালে শুরু করেন জওহরলাল নেহরু যিনি রাহুল গান্ধীর দাদা। পত্রিকাটি ছাপা হতো অ্যাসোসিয়েট জার্নালস লিমিটেডের (এজেএল) মাধ্যমে। ৫ হাজার স্বাধীনতাকামী শেয়ারহোল্ডার ১৯৩৭ সালে এজেএল প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানি আরও দুটি দৈনিক চালু করে- এর একটি হলো উর্দু ভাষায় কওমি আজম অন্যটি হিন্দিতে নবজীবন। পরবর্তীতে ন্যাশনাল হেরাল্ড হয়ে ওঠে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মুখপাত্র। প্রখ্যাত জাতীয়তাবাদী নেতারা পত্রিকাটিতে লিখতে শুরু করেন। নেহরু নিয়মিত পত্রিকাটিতে লিখতেন। মূলত কংগ্রেসই পত্রিকাটির নীতিনির্ধারক হয়ে ওঠে। কিন্তু ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার ন্যাশনাল হেরাল্ড বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তার তিন বছর পরই পুনরায় সেটি চালু হয়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে নেহরু ন্যাশনাল হেরাল্ডের বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন। কিন্তু তারপরও কংগ্রেস পত্রিকাটির ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।

স্বাধীনতার পরও ভারতের কিছু সেরা সাংবাদিকের তত্ত্বাবধানে একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকে পরিণত হয়েছিল এমনকি কংগ্রেসের অর্থায়ন অব্যাহত ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে আর্থিক কারণে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এর ডিজিটাল সংস্করণ চালু হয়।

বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামীর অভিযোগ হলো- কংগ্রেস পত্রিকাটির তহবিল থেকে ২০ বিলিয়ন রুপির সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। শুধু পত্রিকাটি নয়, এজেএল ছাপাখানার সম্পদও লুট করেছে কংগ্রেস।

প্রসঙ্গত ২০০৮ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ড বন্ধ হওয়ার সময় এজিএল কংগ্রেসের কাছে ৯০০ মিলিয়ন রুপি পাওনা ছিল। যদিও কংগ্রেস বলছে- ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় বেআইনিভাবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। ইডি একসময় মামলাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে আবার রাজনৈতিক কারণে মামলা চালু করা হয়েছে। সস্তার রাজনীতি ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা ছাড়া এই মামলায় আর কিছু নেই।

এদিকে গতকাল রাহুল গান্ধী নয়াদিল্লিতে প্রথমে কংগ্রেস দপ্তরে যান। সেখানে আগে থেকেই দলীয় নেতারা আপেক্ষ করছিলেন। পরে তারা বিক্ষোভ করেন। কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ বের করলে দফায় দফায় পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। তবে কংগ্রেস নেতারা বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল ও তার আইনজীবী ইডি দপ্তরে যান। আর কংগ্রেস নেতারা সড়কে বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড