,

আসামিদের বিরুদ্ধে আগে অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

news-image

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের পূর্ব হাজিপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাসফিয়া আক্তার জান্নাত নামে চার বছরের এক শিশু নিহতের ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিমন, মহিন, সুজন, রহিম, বাদশাহ, আকবর এলাকায় আগে থেকেই মাদকদ্রব্য বিক্রি, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানান স্থানীয়রা। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ দিলেও অধিকাংশ সময়ই কোন ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ছাড়া কয়েকবার পুলিশের হাতে ধরা খেলেও জামিন নিয়ে পুনরায় এলাকায় এসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো আসামিরা। এমন অভিযোগ এলাকাবাসী এবং স্থানীয় ইউনিয়ন প্রশাসনেরও।

জানা যায়, কিছুদিন আগে মো. খুরশিদ আলম তার একটি জমির মাটি বিক্রি করেন মো. বাদশাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে। পরে ওই জমি থেকে মাটি কেটে নেন বাদশাহ। যে পরিমাণ মাটি কাটার কথা ছিল তার চেয়ে বেশি মাটি কাটেন তিনি। এ নিয়ে তাকে বাধা দিলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে আলমের ওপর হামলা চালান বাদশাহ।

সবশেষ গত শুক্রবারের (৮ এপ্রিল) ঘটনা উল্লেখ করে খুরশিদ আলমের ভাই ফিরোজ জানান, আমরা পৈতৃক জমি চার ভাই ভাগ করে নিয়েছি। এক ভাই (খুরশিদ আলম) জমির মাঝের অংশ বিক্রি করে ফেলে। আমি আমার ভাইকে বললাম, তুমি যে জমির মাঝখানে বিক্রি করছো, আমার জমিটা ভাঙ্গলা কেন? যার কাছে বিক্রি করেছে (বাদশাহ) সে বলে, আমরা জমির সব মাটি তুলে ফেলবো। এতে কার কি? আমি তাকে বললাম, এটা কোন সামাজিকতা না। এ কথা নিয়ে তার (বাদশাহ) সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তখন এখানে সাগর নামে একজন ছিল। তিনি (সাগর) এই ঘটনা মিটমাট করার কথা বলে ফোন করে কিছু মানুষ নিয়ে আসে।

পরে বাদশাহও ফোন করে কিছু মানুষ জড়ো করে। লোকগুলো এসেই আমার শার্টের কলার চেপে ধরে। তখন আমার চার মেয়ে এসে তাদের বললো, তোমরা আমার আব্বার সঙ্গে এমন কর কেন? আমার ভাই থাকলে তো ভাই ফয়সালা করতো! তোমরা এমন করো কেন? একথা বলায় আমার মেয়েদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। আমার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের পেটে লাথি মারে।

তিনি আরও বলেন, হামলায় রিমন, মহিন, সুজন, রহিম, বাদশাহ, আকবর সরাসরি অংশ নেয়। এরা সবাই এই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা আমাকে ধমক দিয়ে দোকানের দিকে যেতে বলে। আমার মেয়েরা আমাকে দোকানের দিকে যেতে দেয়নি। সন্ধ্যায় আমরা একজন সার্ভেয়ার এনে সাগরসহ বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসি। আমরা সেখানে বসা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘর লক্ষ্য করে ৩/৪ টা ককটেল নিক্ষেপ করে। আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি কোন রকমে আমার পরিবার নিয়ে জান বাঁচাইছি। তাদের পিস্তলের খোসা আমি পুলিশ কর্মকর্তা জসিমের কাছে তুলে দেই।

এ ঘটনায় শনিবার (৯ এপ্রিল) বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগপত্র লিখে থানায় ওসির কাছে যাই। ওসি মামলা না নিয়ে আমাকে বলে, মামলার দরকার নেই। সেদিন যদি মামলা নিয়ে ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে গতকালের (১৩ এপ্রিল) ঘটনা ঘটতো না, শিশু তাসফিয়াকেও গুলি খেয়ে মরতে হতো না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বুধবার (১৩ এপ্রিল) রাতে শিশু তাসফিয়ার খুনিরা লতিফপুর রমিজ উদ্দিন হাজী বাড়িতে একটা খামারে ছিল। আমি একাধিকবার বেগমগঞ্জ মডেল থানার ডিউটি অফিসারকে ফোন করে জানিয়েছি। তারা যদি তখন আমার ফোনে আসতো সেখান থেকে আসামিদের ধরতে পারতো। তারা আসছি, আসলে পাবো কিনা- এসব বলে আর আসেনি।

হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আজিম মির্জা বলেন, ‘হাজীপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আমি এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। এখানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক অত্যধিক হারে বেড়েছে। শিশু তাসফিয়ার হত্যায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ন্যায় বিচারের বিষয়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’

তবে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি। তিনি জানান, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ আনেনি। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের অবস্থান সম্পর্কেও কেউ জানায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না