,

এমন আনন্দ কখনও পাইনি: মুশফিক

news-image

কি নিষ্পাপ, কি কোমল, কি আদুরে সেই হাসি। ঝুঁটিওয়ালা সবুজ টিয়া পাখিটির পুতুল হাতে পেয়ে যেন আকাশ ছুঁয়েছিল চাঁদমুখটি। আর এই চাঁদ দেখতেই বুঝি বৃহস্পতিবার ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। হাতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন একগাদা উপহারের পুতুল। সারাদেশে যখন রাজন-রাকিবরা বর্বরতার স্বীকার হচ্ছে, কিছু বিকৃত মানুষের কারণে গোটা দেশের বিবেক যখন প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খাচ্ছে, খবরের প্রথম পাতায় যখন শিশু নির্যাতনের ছবি কষ্ট দিচ্ছে, তখন মুশফিকের সেলফিতে অসুস্থ শিশুটি ও তার মায়ের মুখের এই হাসি সত্যিই সূর্যের হাসি তুল্য। যা কখনও অর্থ দিয়ে মেলে না, ভয় দেখিয়ে পাওয়া যায় না, শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই পারে এই হাসি উপহার দিতে।
 
বৃহস্পতিবার মুশফিক সেটাই দিয়েছিলেন। সাবেক ক্যাডেট ছাত্রদের একটি সংগঠন (টয়েস আর ইয়োরস) আয়োজন করেছে একটি ভিন্নধর্মী অভিযান। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে খেলার পুতুল তুলে দিতে চায় তারা। শুরুটা হয়েছে কিছুদিন আগেই। বৃহস্পতিবার তারাই মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল ঢাকা শিশু হাসপাতালে। প্রতি দিনের মতোই চারপাশে রোগীদের স্বজনের চিন্তিত মুখ আর বিছানায় রোগীদের বিষণ্ন অপেক্ষা। তার মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টায় সেখানে যান মুশফিক। প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে শিশুদের পুতুল উপহার দেন। দেশের হয়ে খেলার মাঠে তিনি অনেক জয় উপহার দিয়েছেন, নিজেও পুরস্কার পেয়েছেন অনেক। কিন্তু এদিন তার উপহার দেওয়া আর পুরস্কার পাওয়ার মূল্যটা বোধহয় কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনার নয়। 'সত্যি বলছি, আমি এত আনন্দ বোধহয় কখনও পাইনি। শিশুদের উপহার দিয়ে তাদের মধ্যে যে আনন্দ খুঁজে পেয়েছি তা ভাষা দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়।' শুধু হাসপাতালে দাঁড়িয়েই নয়, সেখান থেকে ফিরে নিজের ফেসবুক পেজেই এ অনুভূতির কথা জানিয়েছিলেন। লিখেছিলেন- 'ওদেরকে ভালোবাসা দিতে হবে। নির্যাতন কখনোই নয়।'
 
ছয় নম্বর ওয়ার্ডে তোলা একটি শিশুর সঙ্গে তার সেলফির ছবিটাও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এর আগেও সিলেটে রাজন হত্যার পর সচেতনতা বৃৃদ্ধিতে নিজেই এগিয়ে এসেছিলেন মুশফিক। ফেসবুকে নিজের পেজে লিখেছিলেন- 'একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার মতো বড় অপরাধ মনে হয় আর নেই। শিশু নির্যাতনকে না বলুন। ওদেরকে ভালোবাসুন।'
 
এদিন হাসপাতালে শিুশুদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়ে আবারও সতর্ক করে দিলেন মানুষ নামক সেসব মানুষ হিংস্র পশুদের। 'অসুস্ট' একটা শিশু খেলনা পেয়ে কি খুশি! এমন শিশুকে হত্যা তো দূরে থাক, নির্যাতন করাও বিরাট অপরাধ। আশা করি সবাই যার যার জায়গা থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করবেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের মতো খারাপ কিছু আর হতে পারে না। সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি। এটা খুবই জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড করতে মানুষ ভয় পায়। শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য।'

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা