,

বিদ্যার আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন অন্ধ হয়েও

news-image

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক সঞ্জিত চক্রবর্তী। বয়স ৬৮ বছর। বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামে। অন্ধত্বের কারণে নিজে লেখা পড়া করতে না পারলেও বিদ্যার আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন ৩৫ বছর ধরে। এলাকার মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ‘সঞ্জু স্যার’ বলে ডাকেন।
সঞ্জু স্যার অন্ধ, তবে জন্মান্ধ নন। ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। দু’টি পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু বিধি বাম। দু’টি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরই তার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। রাতে পড়তে খবই সমস্যা হয়। ফলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে আর অংশগ্রহণ করতে পারেননি সঞ্জু চক্রবর্তী। একদিকে অর্থাভাব, অপর দিকে চিকিৎসকদের মতে এর কোন সু-চিকিৎসা নেই। এ অবস্থায় সঞ্জু অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আর চোখে দেখতে পাননি। হয়ে যান অন্ধ সঞ্জু।
দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে সঞ্জু চক্রবর্তী নিজ বাড়ি শ্রীমঙ্গল থেকে চলে আসেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্কপুর ইউনিয়নের গংঙ্গানগর গ্রামের মামার বাড়িতে চলে আসেন। এখানে এসে ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের পাশে নিজ বাড়ির উঠানে গাছ তলায় শুরু করেন শিশুদের পাঠ দান। আস্তে আস্তে এর বিস্তার লাভ করতে থাকে। পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশুরাও বিদ্যা গ্রহণে অংশ নেয়। বিনিময়ে শিশুদের অভিভাবকরা সামান্য সম্মানী প্রদান করেন। আর এ দিয়েই স্ত্রী-২কন্যাসহ ৪ সদস্যের সংসার চলে টানাপুরেনের মধ্য দিয়ে। এ অবস্থায়ও বড় মেয়ে মৌসমী চক্রবর্তী এইচএসসি পাশ করে। অর্থাভাবে আর এগুতে পারেনি মৌসুমী। সম্প্রতি বড় মেয়েকে পাত্রস্থ করেছেন। তবে তার সংসারও চলছে টানাপুরেনের মধ্য দিয়ে। আর ছোট মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী।
এদিকে সঞ্জিত চক্রবর্তীর নিকট পড়ে শিশুরা ভাল ফলাফল অর্জণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সঞ্জিত চক্রবর্তী এলাকায় সঞ্জু স্যার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ইাতমধ্যে কেটে গেছে ৩৫ বছর। বর্তমানে অন্ধ সঞ্জু স্যার ৩টি সিফটে শিশুদের পাঠ দান করে যাচ্ছেন। ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে ২৫ জন। তার ছাত্রদের অনেকেই বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত। উনার এক ছাত্র পুলিশে চাকুরী নিয়ে বর্তমানে ওসি পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি মৌভীবাজার জেলায় কর্মরত। কেউ কেউ শিক্ষকতা করছেন। কেউ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
কলেজ শিক্ষক প্রভাষক জালাল উদ্দিন বলেন, অন্ধ শিক্ষক সঞ্জু স্যারের পাঠদান দেখে আমরা অভিভুত। তার নিকট থেকে অনেক কিছু শিক্ষার আছে।
সঞ্জু চক্রবর্তী বলেন, আমি নিজে পড়তে পারিনি তো কি হয়েছে। অত্র এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালাতে পেরেছি এটাই আমার বড় পাওয়া। তিনি বলেন, বয়সের কারণে তিনি আর বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারেননা। তবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শিশুদের মাঝে বিদ্যা বিলিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অভাবের সংসার চালিয়ে যেতে বড় মেয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তবে তার সংসারেও টানাপুরন। এ অবস্থায় তিনি তার মেয়ের জন্য সরকারী বা বেসরকারী একটি চাকুরীর জন্য আবেদন জানান।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ