,

১লা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার দাবী -বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াছেল সিদ্দিকী

aaaaaaaaaaসিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মোহাম্মদ আফজল এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াছেল সিদ্দিকী বলেন-

আমরা গত ০১ ডিসেম্বর’ ২০১৪ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা দিবস বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যমত পোষন করেছি। তিনি বলেন, এই দিবসটি আমরা বেশ কয়েক বছর যাবত সরকারিভাবে স্বীকৃতি লাভের আশায় পালন করে আসছি। অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, আজ ৪৩বছর স্বাধীনতার বয়স, এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি দিবস উদযাপনের ঘোষণা আমরা পাইনি। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছি, আমাদের কোনো দিবস থাকবে না তা হতে পারে না। দেশে বহু দিবস আছে, সেনাবাহীনি দিবস, পুলিশ দিবস, বিজিবি দিবস, আনসার দিবসসহ আরো কত দিবস। যার যার দিবসে সবাই যার গুণগান গায়। দেশ যতদিন থাকবে এ বাহিনীগুলোও ততদিন থাকবে। কিন্তু আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তো আর বেশিদিন থাকবো না। আমাদের যদি কোনো দিবস না থাকে আমাদের অনুপস্থিতিতে তখন আমাদের গান কে গাইবে? এই নতুন প্রজন্ম কি করে জানবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। কাজেই এই দিবস পালনের মাধ্যমেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে। এ দাবী আমাদের সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র নির্দেশে আমরা এই দেশ শত্রুমুক্ত করতে জীবন বাজী রেখে পাক হায়েনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযোদ্ধারা সবার উর্ধ্বে, এজন্য আমরা ছিলাম নিঃস্বার্থ। আমরা কোনো বেতনভুক্ত ছিলাম না। চাকরী, প্রমোশন কিংবা খেতাবের জন্য কোনো ধরনের লোভ-লালসা আমাদের ছিল না। সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে তাদের পাশে থেকে আমরা যুদ্ধ আরম্ভ করেছিলাম। আজ দেশে ১৬ কোটি মানুষ, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যারা এখনো বেঁচে আছি, তারা এখনো ১৬ কোটি মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র, তাদের অহংকার ও তাদের গৌরব। এ দেশের স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করছে। তিনি বলেন, দেশের নতুন প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না চাওয়ার তো কোনো কারণ নেই। তারা যদি বুঝে তাদের পূর্ব পুরুষকে যারা হত্যা করেছিল, পরাধীনতার শিকল তাদের পায়ে যারা পড়াতে চেয়েছিল, তাদের মা-বোনের ইজ্জত হরন করতে যাদের সহযোগিতা করেছিল, যারা দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য দেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছিল এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল, এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের (নতুন প্রজন্মদের) স্বস্তি নেই এবং তাদের ক্ষমা কেউ চাইতে পারে না।
ওয়াছেল সিদ্দিকী বলেন, একটি কথা আমাদেরকে বুঝতে হবে, যদি ১৬ই ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন না করত, তাহলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সাথে যুদ্ধ করেই মরতে হতো। নতুবা তারা আমাদেরকে গ্রাম-গঞ্জ থেকে ধরে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতো। দেশদ্রোহীতার অপরাধে আমাদের বিচার তারা খুব দ্রুতই সম্পন্ন করতো। কিন্তু আমরা বিজয়ী হয়েও তাদের বিচার আজও সম্পন্ন করতে পারিনি। দীর্ঘ ৪৩বছর পর সামান্য কয়েকজনের বিচার হয়েছে ও বাকীগুলো আইনী প্রক্রিয়াধীন। আজ এমন সময়ে বিচার হচ্ছে, যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায়। আজ তারা বিচারের মুখোমুখী হচ্ছে আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল যথেষ্ট ভোগ করার পর।
পরিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াছেল সিদ্দিকী ১লা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার জোর দাবী জানান।

 

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা