বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাকের কর বাড়ান, মানুষের জীবন বাঁচান।

IMG_5157ডেস্ক রিপোর্ট : সুস্থ সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা সবাই করে। কথায় বলে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভাল থাকলে সবকিছুই ভাল থাকে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে রোগবালাইয়ের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাণঘাতি রোগ। বাংলাদেশে স্ট্রোক, ক্যান্সার, হৃদরোগ, যক্ষাসহ প্রধান ৮টি প্রাণঘাতি রোগের মূল কারণ হচ্ছে তামাক ব্যবহার। বিশ্বব্যাপি মৃত্যুর প্রায় ১০ ভাগ মৃত্যুই তামাক ব্যবহারজনিত কারণে হয়ে থাকে। সারাবিশ্বে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবছর তামাকজনিত মৃত্যুসংখ্যা ৮০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে; যার ৮০ ভাগই হবে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশসমূহে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে গ্যাটস ২০০৯ সালের তথ্যনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যবরণ করে ৫৭ হাজার মানুষ এবং এ মৃত্যু সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা যদি তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারি তাহলে মারাত্বক এ রোগগুলোর হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। তামাকের ব্যবহার কমাতে প্রয়োজন এর উপর উচ্চহারে কর আরোপ করা। তামাকের উপর উচ্চহারে কর আরোপ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর ব্যবহার কমাতে কার্যকর। কারণ, উচ্চ হারে কর আরোপ করা হলে তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের চাহিদা মতো তামাকজাত পণ্য ক্রয় করতে সক্ষম হবে না। যার ফলে তামাকের ব্যবহার হ্রাস পাবে।  

বিশ্বব্যাংকের পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, তামাকের উপর কর আরোপের ফলে ১০ ভাগ যদি মূল্য বৃদ্ধি পায়; তবে তামাকের ব্যবহার ৪ ভাগ কমে উন্নত দেশে পক্ষান্তরে উন্নয়নশীল দেশে কমে ৮ ভাগ। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাদের মাথাপিছু আয় সীমিত। গ্রামের দরিদ্র মানুষ দামী সিগারেট ক্রয় করতে পারে না। যার ফলে তারা বিড়ি বেছে নেয়। বিড়ির উপর যদি সমহারে কর বাড়ানো হয় তাহলে এর ব্যবহারও কমে আসবে। 

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ৩১ মে, পালিত হবে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তামাকের উপর কর বাড়ান (জধরংব ঃধীবং ড়হ ঃড়নধপপড়)। কারন, সারাবিশ্বে তামাকের ব্যবহার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাকের ব্যবহার হ্রাস করতে এর উপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এ জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাকের উপর কর বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অথচ নিত্যপয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে সে হারে বাড়ছে না তামাকজাত পণ্যের দাম। 

তামাকের দাম বাড়িয়ে মারাত্বক প্রাণঘাতি রোগগুলোর হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন আসন্ন বাজেটে তামাকের উপর উচ্চহারে কর বাড়ানো।  অর্থমন্ত্রীর ও  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান উচিত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে  বিড়ি-সিগারেট, জর্দ্দা ও গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের উপর উচ্চহারে কর আরোপ করা। যা হবে মানুষের জীবন বাঁচাতে ও তামাক নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ট পদক্ষেপ।    

এ জাতীয় আরও খবর

চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে চলবে এইচএসসি পরীক্ষা

কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানি হামলার পর বাজল সতর্ক সাইরেন

মেট্রোরেলের বিজ্ঞাপন আয় নিয়ে কর জটিলতা কাটাতে চিঠি

আন্দোলনের আশঙ্কায় এইচএসসি কেন্দ্রে অভিভাবকদের ভিড়

দেশকে সবুজ করতে শিশুদের গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্পেনের শিরোপা স্বপ্নে ‘তিন অভিশাপের’ হিসাব

বন্যার্তদের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব: ত্রাণমন্ত্রী

ট্রাম্পকে নতুন চাপে ফেলছে ইরানের কৌশল

দরপত্র ছাড়া ১৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ

সাগরে লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

দুর্গতদের পাশে সরকার, সহায়তা অব্যাহত: প্রতিমন্ত্রী

মানবপাচার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী