,

‘বাজারের ৯০ ভাগ খাদ্যই ভেজাল’

Food..........ডেস্ক রিপোর্ট :রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ভেজাল খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বিক্রি এসব খাবারের ৭০ থেকে ৯০ ভাগই ভেজাল বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ল্যাবটরির কর্মকর্তারা। ভেজাল খাদ্য বিক্রি ঠেকাতে আইন তৈরি করা হলেও বা¯ত্মবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। আর এ জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞ এবং ভোক্তারা।জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরি সূত্রে জানা গেছে, পানি, দুধ, মসলা, তেল এবং মিষ্টিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিস দৈনন্দিন বাজারে সেগুলোর অর্ধেকে ভেজাল কিংবা নিম্নমানের। এটা ছিল যেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে। প্রযুক্তির অভাবে আরো অনেক জিনিস রয়েছে যেগুলো এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরির কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ল্যাবরেটরিতে কেবল ১০৭ প্রকারের আইটেম পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। প্রক্রিয়াজাত নয় এমন আরো জিনিস যেমন সবজি, মাংস, ফল এগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়নি সক্ষমতার অভাবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যšত্ম সময়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ প্রকার খাদ্যের মধ্যে ৪৯ হাজার ৫৫৫টি আইটেম ভেজাল কিংবা নিম্নমান বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন।

তাদের মতে, সরকার মনে করছে আইন প্রণয়ণ করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। তাই আইনের প্রয়োগ বা খাদ্য ভেজালমুক্ত সে বিষয়টি নিয়ে আর তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

এদিকে কেউ কেউ বলছেন, দৈনন্দিন যেসব খাবার জিনিস বাজারে বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর ৭০ থেকে ৯০ ভাগ ভেজাল।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর বাংলাদেশের উপদেষ্টা ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সাভির্সের (ডিজিএইচএস) সাবেক ব্যবপস্থাপনা পরিচালক শাহ মনির হোসেন বলেন, বাজারে যেসব খাবার জিনিস বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ভেজাল কিংবা নিন্মমানের।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও আমার মনে হয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানই সবচেয়ে খারাপ।

আরডিআএস’র নির্বাহী পরিচালক সেলিমা রহমান বলেন, তারা গবেষণায় দেখেছেন বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যগুলোর শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি ভেজালযুক্ত।

বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এস কে রায় বলেছেন, দেশের খাদ্য তালিকার ১৫০ থেকে ২০০টি প্রকার আইটেম ভেজালযুক্ত বা নিম্নমানের।

এস কে রায় বলেন, সমস্যা যেভাবে দেখা দিয়েছে তাতে শুধু আইন পাস করলে হবে না। সেটাকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, চাল, মাছ, ফল, শাকসবজি ও মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন খাবারে ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে কেমিক্যাল মিশ্রিত করে। যাতে করে খাবারগুলো দ্রুত নষ্ট না হয়। কিন্তু এটা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তারা বলেন, এসব বিষক্রিয়ার ফলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা  দেখা দিতে পারে। তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এছাড়া নারীদের বন্ধাত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়া ভেজালযুক্ত এসব খাবার খাওয়ার কারণে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস হতে পারে। আবার লিভার, কিডনি ও হার্টের মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে এসব খাবার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অনকোলজি বিভাগে চেয়ারম্যান সৈয়দ এম আকরাম হোসাইন বলেন, মাছ, মাংস, ফলমুল এবং দুধে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন মেশানোর ফরে গলায় ক্যান্সার ও রক্ত ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

নিউ এজ

এ জাতীয় আরও খবর

ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না : আছিয়ার মা

ফিরছেন প্রীতম হাসান

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, হাতকাটা কাশেম ৫ দিনের রিমান্ডে

নতুন দায়িত্ব পেলেন ডা. জাহিদ হোসেন

‘আগ্রাসনের স্বীকার যেন দেশের মানুষ না হন, আমরা সজাগ থাকব’

কৃষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, শর্টগান ফেলে পালাল বিএসএফ

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি

মহানবী (সা.)-এর জীবন-আদর্শ অনুসরণ করে কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ভুল তথ্য দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করল সিপিডি

বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি