শোকে স্তব্ধ ৫ গ্রামের মানুষ, চলছে শেষ বিদায়ের প্রস্তুুতি

news-image

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর : রাজশাহীর কাটাখালীতে গত শুক্রবার বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। এতে সাত শিশুসহ ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের। মরদেহ আসার পর নিহত নিহত ১৭ জনের দাফন হবার কথা রয়েছে বলে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে স্মরণকালে এ রকম শোক নেমে আসেনি পীরগঞ্জবাসীর জীবনে।

শোকে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে পীরগঞ্জের পাঁচটি গ্রাম। প্রতিটি বাড়ির উঠান-ঘরগুলোতে মানুষের ভিড় আছে, কিন্তু বাড়ির বাসিন্দারা কেউ নেই। সেখানে আশপাশের মানুষ ও নিকটাত্মীয়রা এসে ভিড় করেছেন। সবার চোখেমুখে শোকের ছায়া। কেউ কাঁদছেন। কেউবা বিলাপ করছেন। সবাই ব্যস্ত স্বজনদের মরদেহ কোথায় রাখা হবে, কখন দাফন হবে তা নিয়ে। কারো কারো কবর খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছে। এতে কোথাও একই পরিবারের সদস্যদের জন্য খোঁড়া হয়েছে পাশাপাশি পাঁচটি কবর, কোথাও চারটি আবার কোথাও তিনটি। সব মিলিয়ে এখন চলছে নিহতদের শেষ বিদায়ের প্রস্তুুতি।

গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলায় মাইকযোগে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কথা মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মরদেহ আসার পর জানাজা-দাফনের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রচার চলানো হচ্ছে। মাইকে এমন শোকবাণী শোনার পর পীরগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলাজুড়েও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা নিহতদের আগুনে পোড়া মরদেহ গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নিহতদের পরিবারের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস।পীরগঞ্জের দাড়িতপাড়ার ১৯ বছর বয়সী পাভেল হারিয়েছে তারা বাবা মোখলেছার রহমান ও মা পারভীনকে। পাভেলের অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।

চৈত্রকোল রাঙ্গামাটি এলাকার ইয়াসিন আলী হারিয়েছেন ছেলে সালাউদ্দিন, পুত্রবধূ সামছুন্নাহার, আট বছরের নাতি সাজিদ ও দুই বছরের নাতনি সাফাকে।
নিহত ব্যক্তির তালিকায় আরও আছেন বড় মজিদপুর গ্রামের ফুলু মিয়া, তার স্ত্রী নাজমা বেগম, মেয়ে সাবিয়া, সুমাইয়া ও ছেলে ফয়সাল, প্রজাপাড়ার তাজুল করিম ভুট্টু, তার স্ত্রী মুক্তা বেগম, ছেলে ইয়াসিন, বড় রাজারামপুর গ্রামের কামরুন্নাহার, দুরা মিঠিপুর এলাকার শহিদুর ইসলাম এবং থানাপাড়ার হানিফ উদ্দিন পচা।

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই সুদীপ্ত শাহীন বলেন, ‘মাইক্রোবাসে থাকা ছয় পরিবারের মধ্যে দুটি পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, সন্তান সবাই নিহত হয়েছে।’নিহত ফুলু মিয়ার ছোট ভাই সুজন মন্ডল বলেন, ‘পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলে ভাই, ভাবিসহ পাঁচটি কবর একসঙ্গে করার কথা ভাবছি আমরা। সবাইকে পাশাপাশি রাখা হবে। সেটা বাড়ির পাশে না কবরস্থানে করা হবে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।’

ছেলের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ ইয়াসিন আলী। বাড়ির পাশেই দাফন করা হবে তার অতি আপন মানুষদের।পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘যাদের চেনা যায়নি তাদের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। লাশ আসলেই দাফন করা হবে। সব ধরণের প্রস্তুুতি নেয়া রয়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবু আসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করেছেন। কমিটি তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিলে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। আর সরকারি খরচে মরদেহগুলো পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন