রংপুর নগরীর জামাল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, ৩০ দোকান পুড়ে ভস্মিভূত

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুর নগরীর স্টেশন রোডের শাহ্ জামাল মার্কেটে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টায় চেষ্টায় আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে ৩০টি দোকান আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। তিনি এসময় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ টাকা, চাল, শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ছয়টার দিকে নগরীর স্টেশন রোডের গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ কাপড়ের এই মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনো জানা যায়নি।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ওহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে প্রথমে ৮টি ইউনিট এবং পরে আরো দুইটি ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও কেউ নিশ্চিত হতে পারেননি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

এদিকে মার্কেটের ভিতরের অন্তত ত্রিশটি কাপড়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই আগুনে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তবে কোনো প্রাণহানি হয়নি।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে আসেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী। মার্কেটের ভিতরে থাকা তার চারটি দোকানের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।এই ব্যবসায়ী বলছিলেন, আগুনে আমার সবশেষ হয়ে গেল। এতো দিনে যা সঞ্চয় করেছি, সবকিছু আগুনে পুড়ে শেষ। কোনো মালামাল রক্ষা হয়নি। দোকানে টিনের চাল উড়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার মেশিন, স্টকে রাখা কাপড়সহ ছাই হয়ে গেছে। ঈদের আগের প্রস্তুতি নিতে সব দোকানে অনেক কাপড় ছিল। কিন্তু আগুনে সবার অবস্থা আজ একই হলো।

শাহ্ জামাল মার্কেটের নীচে পাইকারি কাপড় বিক্রিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরির ছোট ছোট কারখানা এবং ফ্রিজ কোম্পানির গোডাউন ছিল। তবে এখানে পাইকারি ও তৈরি কাপড়ের দোকান বেশি ছিল।

হোসেন আলী নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমাদের কিছুই রক্ষা হয়নি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়। মার্কেটের সামনের দোকানগুলো রক্ষা হলেও ভিতরে অনেকের মালামাল,পুঁজি সবই আগুনে পুড়ে গেছে। আমাদের ঈদের ব্যবসা আর হবে না। সব পুঁজি রুজি তো আগুন খেয়ে নিল।
মার্কেটের পাশেই অবস্থিত তেঁতুলতলা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবু বকর সিদ্দিক জানান, ফজরের নামাজের পর আমরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি আগুন লেগেছে। কাপড় ও মেশিনে আগুন লাগায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের অনেক সময় লাগে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এদিকে সকাল সোয়া নয়টায় পর পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে মার্কেটের আশপাশ।
শাহ্ জামাল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, ওই মার্কেটে প্রায় সকলেই কাপড় ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে মার্কেটে আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। অগ্নিকা-ে মার্কেটের দুই লাইনের ২৫-৩০ দোকান পুড়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী