মুন্সীগঞ্জে তালতলা-ডহুরী খালের ভাঙনে আশ্রয়হীন ১৫ পরিবার

news-image

মামুনুর রশীদ খোকা, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে তালতলা-ডহুরী খালে অসময়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কাইচাইল গ্রাম সংলগ্ন এ খালে গেল কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ৩০টি বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। এতে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অন্তত ১৫টি পরিবার।

অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙন আতঙ্কে উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে আরও ৩০টি পরিবার।

বর্ষা মৌসুম শেষে ঐতিহ্যবাহী এ খালের পাড়ের কাইচাইল গ্রামে ৩ কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, জেলার সিরাজদীখান উপজেলার তালতলা গ্রামের ইছামতি ও লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামের পদ্মার সংযোগ এ খালে বছর জুড়েই তীব্র স্রোত প্রবাহমান থাকে। আবার প্রতিদিন বালুবাহী শত শত বাল্কহেডের চলাচলের কারণে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাত লাগে খালের পাড়ে।

তা ছাড়া বর্ষা মৌসুমে খালের বিভিন্ন স্থান থেকে রাতের আঁধারে বালু কেটে নিয়েছেন বালু খেকোরা। ওই ৩ কারণেই অসময়ের ভাঙনে খালের পাড়ে একের পর এক ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে।

এদিকে, ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে কাইচাইল গ্রামের মনির হোসেন, জাহাঙ্গীর খান, মোতালেব বেপারী, ইমরান খান, খালেক শেখ, সানাউল্লাহ বেপারী, আহসান উল্লাহ, জসিম বেপারী, বারেক শেখ ও আব্দুল মালেকের পরিবারসহ আরও অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সবেমাত্র ৪ শতাংশ জায়গার উপর দুই ভাই জাহাঙ্গীর ও ইমরানের বসতঘর ছিল। মা তাসলিমাসহ ছেলে-সন্তান নিয়ে দুই ভাইয়ের বসবাস খালের পাড়ে। নিত্যদিনের উপার্জনে কোনো রকমে সংসার চলে তাদের।

ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন দুই ভাই। ইমরান অপরের বাড়িতে আশ্রয় পেলে ভাই জাহাঙ্গীর মা তাসলিমা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছেন।

৬৫ বছর বয়সের মা তাসমিলা বেগম সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, আমাগো থাকার আর কোনো জায়গা নাই। এহন পড়ে আছি অসহায়ের মতন। খালের পাড়ে খোলা আকাশের নিচে দিনরাত কাটছে। কোথায় যাবো জানি না।

স্বামী হাসমত আলী বেপারীর বসতভিটে হারিয়ে বিলাপ করছেন স্ত্রী সালেহা বেগম (৭৫)।

৪ ছেলে আর নাতি-নাতনিদের নিয়ে তার সংসার। ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছেন এ বৃদ্ধা। তিনি বলেন, বিয়ের পর স্বামী আমারে এই বাড়িতেই আইন্যা তুলছে। আজগা হেই বাড়ি ভেঙে নিয়েছে মরা খাল। ছেলে-নাতি-নাতনিদের নিয়া কই যামু।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নবী হোসেন বলেন, খালের পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার কারণেই কাইচাইল গ্রামে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ গ্রামে এখন এমন মানুষ আছে, যাদের আর এক শতাংশ জায়গাও নেই।

খালের ভাঙনে তারা আজ অসহায় কেবল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. রাশেদুজ্জামান বলেন, ভাঙন চলমান রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ভাঙনকবলিতদের তালিকা পেয়েছি। সরকারিভাবে তাদের সহায়তার সব রকমের ব্যবস্থা করা হবে। খোলা আকাশের নিচে বাস করা পরিবারগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান