ভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ফের ছিনিমিনি খেলতে চায় : শেখ হাসিনা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তারা নির্বাচন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে আবার ছিনিমিনি খেলতে চায়। গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আমরা চলি, আমার কোনো ভয় নেই। দেশের মানুষকে ভালোবাসি। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আর কেউ বাধা দিতে পারবে না।

গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ছাত্রসমাবেশে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব স্মরণে ছাত্রলীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথগ্রহণ করেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় ছাত্রসমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার একটাই লক্ষ্য, এ দেশকে উন্নত করব। আমার কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা কেউ যেন নস্যাৎ করতে না পারে, তোমাদের (ছাত্রলীগ) অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তোমাদের বলব, শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি হলো ছাত্রলীগের মূলনীতি। এই নীতি মেনেই ছাত্রলীগকে চলতে হবে।’

ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের যে কোনো স্বৈারচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগ মাঠে নেমেছে। এই তারুণ্যের শক্তি এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশকে। আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়ার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ আমরা গড়তে পেরেছি। প্রতিটি কাজ আমরা দেশের উন্নয়নে করতে পেরেছি। তার পেছনে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ছাত্রদল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট। আর আমি ছাত্রলীগকে দিয়েছিলাম খাতা আর কলম। বলেছিলাম পড়াশোনা করতে হবে। লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ না হলে কোনো আদর্শ বাস্তবায়ন করা যায় না। অশিক্ষিত মূর্খদের হাতে দেশ পড়লে তার অগ্রযাত্রা হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও আমার বাবা-মায়ের খুনিরা তখন ক্ষমতায়। কোনো বাধা আমাকে আটকে রাখতে পারেনি। আজ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা দেখি মানবাধিবারের কথা বলেন। সেই ১৫ আগস্ট মা-বাবা হারানোর পর তো বিচার চাইতে আমরা পারিনি। আমাদের বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। স্ব^াধীনতা যেন নস্যাৎ হয়, সেই চেষ্টা করেছিল কিছু লোক। স্বাধীনতার পর তারা সময় দেয়নি। বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ছিলেন, তখন দেখেছি একশ্রেণি ধ্বংসাত্মক কাজ করে গেছে। পাটের গুদামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, থানা লুট, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করা- তারা স্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। যে চক্রান্ত স্বাধীনতার পরপর শুরু হয়েছিল, সেটা তো এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’

ছাত্রলীগের বিভিন্ন সময়কার সামাজিক কর্মকা-ের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি দুর্যোগে তারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়; গর্বে আমার বুক ভরে যায়। এভাবে তারা এগিয়ে গেলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ বন্ধ

করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য নয়। রাষ্ট্রপতির মেয়ে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম। নিজেও তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। কই নিজের জন্য তো কিছু করার চিন্তা করিনি, বা আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্যও নয়। তাদের শিক্ষা দিয়েছি। তারা নিজেরা কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। লোন নিয়ে লেখাপড়া করেছে। ওদের জন্য বেশিকিছু করতে পারিনি। শিক্ষাটাই তাদের একমাত্র সম্পদ, সেটাই দিয়েছি।’

ড. ইউনূসের কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়েছিল- এমনটা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বদনাম দিয়েছিল। কেন দিয়েছিল? একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য। ১০ বছর বেআইনিভাবে ব্যাংকটি চালিয়ে আবার সেখানে থাকতে হবে- সেই লোভে। একটি বড় দেশ বারবার চাপ দিত; বলত- এমডি পদে না রাখলে নাকি পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে সেই ভদ্রলোক (ড. ইউনূস) মামলাও করেছিল। কিন্তু আদালত তো তার বয়স কমাতে পারে না; মামলায় হেরে যায়। অর্থায়ন বন্ধ এটা বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে হয়নি। ওই হিলারি ক্লিনটন নিজে অর্ডার দিয়ে তখন বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যানকে দিয়ে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে। তখন বলেছিলাম, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করব। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে দেখিয়েছি, বাংলাদেশও পারে। এরপর কিন্তু বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বদলে গেছে।’

ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান বলে নয়, যে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে সঠিক নেতৃত্ব দরকার। আশা করি ছাত্রলীগের নেতারা নিজেদের সেই নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলবেন।’

গতকাল সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করতে থাকেন। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্ব¡র, মৎস্য ভবন, হাইকোর্টে ভবনের সামনে দিয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত লাখ লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। ছাত্রলীগের দাবি, সারাদেশ থেকে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে সুলতান মনসুর

ছাত্রলীগের এক সময়ের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য (ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ গতকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনেকেই অবশ্য সমাবেশে ছিলেন। কিন্তু যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরে চলে গেছেন, তাদের মধ্যে কেবল সুলতান মনসুরকেই দেখা গেছে।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন (মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সুলতান মনসুর। নৌকার সুলতানখ্যাত এই প্রার্থী সেই সময় বিএনপি জোটের শরিক গণফোরামের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। যদিও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই সুলতান মনসুর বলতে শুরু করেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন। তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাননি।

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান