নির্বাচন বাঁচিয়ে না রাখলে রাজনীতি উধাও হয়ে যাবে : সংলাপে সিইসি

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচন যদি না থাকে, তা হলে রাজনীতিরই বিপদ। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোট করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অষ্টম দিনে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে এ মন্তব্য করেন সিইসি। এদিন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিকল্পধারা ও এনপিপির সঙ্গে বৈঠক হয়। সূচি থাকলেও ইসলামী আন্দোলন অংশ নেয়নি।

জমিয়তে উলামায়ের সঙ্গে সংলাপে সিইসি বলেন, পলিটিক্স থেকে কিন্তু গণতন্ত্রের জন্ম। গণতন্ত্র থেকে পলিটিক্সের জন্ম হয়নি। অনেক আগে যখন ক্ষমতা নিয়ে…, তারপর আস্তে আস্তে উনারাই সৃষ্টি করলেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের। সেই নির্বাচন যদি বাঁচিয়ে রাখা না যায় তা হলে পলিটিক্স উধাও হয়ে যাবে, পলিটিক্স থাকবে না। এটাকে পলিটিক্সও বলা যাবে না, গণতন্ত্রও বলা যাবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে শুধু আস্থা নয়, কমিশনের কাজের সমালোচনা এবং নজরদারিও চান সিইসি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এই প্রতিশ্রুতির কিছু মূল্য থাকা তো উচিত। একেবারে যে আমরা ডিগবাজি খেয়ে যাব, তা তো না। সেটা হওয়ার কথা নয়। গোপনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার যে অভিযোগ নির্বাচনের সময় আসে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

মনে করেন সিইসি। তিনি বলেন, আপনাদের নজরদারি থাকতে হবে। আমরা কি আসলেই সাধু পুরুষ? নাকি ভেতরে ভেতরে অসাধু? নজরদারি যদি না রাখেন, তা হলে আপনাদের তরফ থেকে দায়িত্ব পালন করলেন না। অভিযোগ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে পাঠাবেন। অর্থশক্তি, পেশিশক্তির অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সামাজিক আন্দোলন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিইসি এদিন আবারও দাবি করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের দায় বর্তমান ইসির নয়। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব দায়িত্ব তারা নেবেন। ২০১৮ সালের যে নির্বাচনের কথা বলেছেন, না, ওভাবে নির্বাচন হবে এটি আপনারা আশা করেন না। আমরা সেটি জানিও না, দেখিওনি। নির্বাচন নির্বাচনের আইন অনুযায়ী হবে।

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সংলাপে অংশ নেয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করে দলটি।

দুপুরে বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। সব কেন্দ্রে ইভিএম, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫ জন করে সদস্য কেন্দ্রে মোতায়েনসহ ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করে দলটি। এ বৈঠকে সিইসি বলেন, অংশগ্রহণমূলক হলেই কি অবিচার, ভোট চুরি হবে না? তা তো নয়। অংশগ্রহণ হলে ভারসাম্য আসে, প্রতি কেন্দ্রে বড় বড় দল থাকে, তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভারসাম্য সৃষ্টি করে, ইসির কাজটা সহজ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের ওপর অনাস্থা থাকতেই পারে। সেই অনাস্থা আমাদেরই দূর করতে হবে কাজের মধ্য দিয়ে।

সংলাপে অংশ নিয়ে ১৬ দফা প্রস্তাবনা দেয় এনপিপি। এর মধ্যে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নির্বাচন করতে কমপক্ষে ৩ বছর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হওয়া; স্বাধীনতাবিরোধী দল এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎকারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা; প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ; তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক মামলা না দেওয়া; ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি।

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান