নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত ৫

news-image

অনলাইন ডেস্ক : সঠিকভাবে হিজাব না করায় গ্রেপ্তার তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর জেরে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ওই হত্যাকান্ডের বিচার নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলছে এই বিক্ষোভ।

বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে কুর্দি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তবে ওই মানবাধিকার সংস্থা তিনজনের মৃত্যুর ব্যাপারে নাম-ধাম সহ পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পেরেছে।

ওদিকে, চলমান বিক্ষোভ সহিংসপন্থায় দমনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটিতে হিজাব করতে অনাগ্রহী নারীদের হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি। মাহসার মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে মঙ্গলাবার বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই-কমিশনার নাদা আল-নাশিফ।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি। চুল ঢেকে রাখেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা ইরান।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

পুলিশ হেফাজতে মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে রাজধানী তেহরান এবং দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলছে। সাধারণ জনগণের সঙ্গে এতে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, ২২ বছর বয়সী মাহসার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ তাকে জোর করে গাড়িতে তুলেছিল। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, তার মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, মাহসা আমিনির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগগুলো অবশ্যই একটি স্বাধীন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নিরপেক্ষ এবং কার্যকরভাবে তদন্ত করা উচিত।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান