ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে ঢাকার যেসব এলাকা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি ওয়ার্ডে রয়েছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। আর দুই দুই সিটি করপোরেশনের বহুতল ভবন এবং বাসা-বাড়িতে সবচেয়ে বেশি এডিসের লার্ভা মিলেছে। শুধু বহুতল ভবনের প্রায় ৪৪ শতাংশে এই লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে চলমান ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রাক-মৌসুম জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জরিপের ফল উপস্থাপন করেন।

জরিপের ফল উপস্থাপনকালে বলা হয়, ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশির পেছনে সবচেয়ে দায়ী মানুষের অসচেতনতা। প্লাস্টিকের ড্রাম, এসির পানি, ফুলের টব ও ছাদে জমা পানিতে এডিসের সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ সাধারণ বাাসা-বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবনে ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ বহুতল ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

এতে আরও বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের স্বীকৃত পদ্ধতি ‘ব্রুটো ইনডেক্স’র মানদণ্ডে লার্ভার ঘনত্ব ২০ শতাংশের বেশি হওয়া মানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেখানে উত্তর সিটির লার্ভার ঘনত্ব ২৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং দক্ষিণ সিটিতে এই ঘনত্ব ২০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। দুই সিটির ৫৫টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরের ২৭টি এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি ওয়ার্ড রয়েছে।

উত্তর সিটির ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটির ৫৮টি ওয়ার্ডের মোট ৩ হাজার ১৪৯টি বাড়িতে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৪৯টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।

ঢাকা উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে- ২, ৩, ৫, ৬, ১০, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৫, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড। আর দক্ষিণ সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৮, ১৯, ২২, ২৩, ২৬, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৪৮, ৫০, ৫১, ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড।

জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমসহ অন্যরা

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, মুগদার দিকে ডেঙ্গু রোগী বেশি, কারণ সেখানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী অনেক বেশি। সেখানে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেও বিস্তার ঘটেছে ডেঙ্গুর।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও অধ্যাপক ডা. রাশিদা সুলতানা (প্রশাসনিস) ছাড়াও ঢাকার দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান