কিশোরদের হাতুড়িপেটা ছাড়াও প্লায়ার্স দিয়ে তুলে নেওয়া হয় চামড়া

news-image

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : প্রতিবন্ধী বাবাকে আর্থিকভাবে কিছুটা সহায়তা করতে করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে কুঁড়ার মিলে কাজ নিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্র কিশোর ফিরোজ হাসান। কিন্তু ঠিকঠাক মতো কাজ করলেও মিলতো না মজুরি। পারিশ্রমিক চাইতে গেলেই তার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালান মিল মালিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। শুধু ফিরোজ একা নয়, তার মতো আরও তিন কিশোর এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সারা শরীরের ক্ষত নিয়ে এই কিশোররা বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।

ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর এলাকার। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় থানায় হত্যাচষ্টার মামলার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

নির্যাতনের শিকার ফিরোজ জানায়, করোনার কারণে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় সে ও তার তিন বন্ধু মেহেদী, তুষার ও তুহিন মহিপুর জামতলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ধানের গুড়ার (কুঁড়া) মিলে কাজ নেয়। তখন ইয়াকুব বলেছিলেন তাদের চারজনকে দৈনিক সাড়ে ৫০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হবে। কিন্তু তারা কাজ করলেও নিয়মিত মজুরি দেওয়া হতো না। এভাবে তাদের ১৪ হাজার টাকা আটকে রাখা হয়। তারা বকেয়া টাকা চাইলে মালিকপক্ষ তাদের গালাগালি করে। একপর্যায়ে তারা কাজ ছেড়ে দেয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে টাকা দেওয়ার কথা বলে ইয়াকুব ওই কিশোরদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মিল ঘরে আটকে রেখে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগে লোহার রড়, বাঁশ, কাঠ, হাতুড়ি ও প্লায়ার্স দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালায়। শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের চামড়া তুলে নেওয়া হয়। তাদের ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়।

সরেজমিন মহিপুর কলোনী গ্রামে গিয়ে কিশোর মেহেদীর মা মিনা বেগমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীদের কাছে সংবাদ পেয়ে মিল ঘরে গিয়ে আমার ছেলে ও তার বন্ধুদের উদ্ধারের চেষ্টা করি। এ সময় মিল মালিক ইয়াকুব আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাদের উদ্ধার করি।’

প্রত্যক্ষদর্শী রেখা বেগম বলেন, ‘কিশোরদের চিৎকারে আমরা মিল ঘরে ছুটে যাই। আমাদের সামনেই তাদের হাতুরি দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় তুষার পানি খেতে চাইলে ইয়াকুব তার মুখ পা দিয়ে চেপে ধরেন।’

তুষার ও তুহিনের বাবা রংমিস্ত্রি স্বপন বলেন, তার দুই ছেলেকে অমানবিকভাবে পেটানো হয়েছে। প্লায়ার্স দিয়ে হাতের তালু ও পায়ের চামড়া তুলে নিয়েছে তারা। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তুহিনের পা ভেঙে দিয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার রাতে ইয়াকুবসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচষ্টার মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান